
বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মাসেতু। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করার এই সেতুটি আরও যে কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো রেল সংযোগ। এই রেল সেতুই ঢাকার সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশকে রেলপথে সংযুক্ত করে। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের কাজ। সম্প্রতি চীনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে পদ্মাসেতু ও পদ্মারেলসেতু পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি জানান, সার্বিকভাগে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮০শতাংশ। পদ্মাসেতু ও পদ্মা রেলসেতু এবং ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ করছে চীন। বিশেষ করে রেলপথ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে চীনা কোম্পানি চায়না রেলওয়ে গ্রুপ। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের এই অংশগ্রহণ দিয়েছে এক নতুম মাত্রা। তাই চীনও এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজকে গুরুত্ব দেয় সবার আগে। এরই প্রতিফলন সম্প্রতি চীনা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে পদ্মাসেতু পরিদর্শন।
চীনা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সেতু এলাকায় পৌছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পদ্মাসেতুর নির্মাণ ও অবকাঠামোর নানা দিন নিয়ে চীনা প্রকৌশলীরা চীনা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন এবং নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপর সেতু এলাকা ও রেলসেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন চীনা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় প্রকল্পের নানা কার্যক্রমের খোজ খবর নেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার সঙ্গে ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত দুই এরইমধ্যে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ ভাগ করা হয়েছে দুটি ভাগে। প্রথমভাগে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত আর দ্বিতীয় ভাগে কাজ চলছে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণে ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ২১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে চীন ও ২০ হাজার কোটি বাংলাদেশের।
পদ্মা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন সিএমজি বাংলাকে জানান, ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশের কাজ ৮৫ শতাংশ এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশের কাজ শেষ হয়েছে ৭১ শতাংশ।প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রথম পর্বের কাজ শেষ করা ছিলো সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে পদ্মাসেতু এলাকার মাটি নরম ও নিচু এলাকায় হওয়ায় সেখানে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া ছিলো খুবই কঠিন। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো বিভিন্ন সেবা সংস্থার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা পাইপলাইন ও সেগুলো সরানো। তবে তার মতে, চলতি বছর শেষে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার ব্যাপারে একটি পরিস্কার ধারনা পাওয়া যাবে। রেলসেতুর নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে নির্মাণ কাজ, আর খুলে দেওয়া সম্ভব হবে রেল চলাচলের জন্য।

আফজাল হোসেন, পরিচালক, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প




















