আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। কোথাও সংঘাতেরও সৃষ্টি হয়েছে। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগে একই পদের জন্য একাধিক যোগ্য নেতা থাকায় প্রতিযোগিতা আছে বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারণী মহল। জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিভেদ ভুলে সবাই দলের পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানান তারা।

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় এবং তৃণমূল নেতাদের মধ্যে দলীয় পদ, সুযোগ-সুবিধা ও মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় বিভেদ তৈরি হযেছে। যার প্রভাব পড়ছে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত অনেক সাংগঠনিক জেলায় নেতাদের অনৈক্য অনেকটাই প্রকাশ্য। স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে তা প্রবলভাবে ফুটেও উঠেছে। নিজ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন অনেকে।

সাংগঠনিক ব্যর্থতা, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করা এবং অন্তর্কোন্দলের কারণে সারা দেশের প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়াসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। তবে কিছুদিন পর সবাইকে আবার সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ের দ্বন্দ্ব কমাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় হিসেব-নিকেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোমালিন্য থাকলেও জাতীয় নির্বাচনে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলে মনে করেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। কিছু সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যর্থ হলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান এই আওয়ামী লীগের দুই নেতা। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতিটি সাংগঠনিক শাখা আরো সক্রিয় করা হচ্ছে বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে