দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশ’ মেট্রিক টন মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হয়। যার ৮৬ টনই সঠিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থাকে। এগুলো সাধারণ বর্জ্যরে সাথে মিশে পরিবেশের যেমন ক্ষতি করছে, তেমনি ছড়িয়ে পড়ছে নানা-ধরণের রোগব্যধী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারী একটি সংস্থা আর সিটি কর্পোরশেন মিলে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে দায়িত্ব নিয়েছে তা অপর্যাপ্ত। দেশে হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু আড়ালে থেকে যাচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র ঢাকার হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ টন চিকিৎসা বর্জ্য তৈরি হয়। যার মধ্যে ১৫ টন ক্ষতিকারক বর্জ্য। হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য আলাদা করতে লাল, কালো, সবুজ, হলুদ ও নীল রংয়ের পাত্র থাকার কথা থাকলেও প্রায় ৬০ শতাংশ হাসপাতালে এমন পাত্র নেই। আবার, যেসব হাসপাতালে পাত্র আছে সেগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই সব ধরণের বর্জ্য মিশে যাচ্ছে বলে জানান, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিব উদ্দিন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ এবং প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল ইসলাম জানান, সংক্রামক বর্জ্যগুলো গৃহস্থালী বর্জ্যরে সাথে মাটিতে মিশে গিয়ে ছড়াচ্ছে নানা ধরণের রোগ। আবার এমন কিছু বর্জ্য আছে যা মাটিতেও মিশে যায় না। বর্তমানে দেশে তিনটি পদ্ধতিতে হাসপাতাল বর্জ্যরে ব্যবস্থাপনা করা হয়। এরমধ্যে একটি অটোক্লেভ। যেখানে ১৩৫ থেকে ১৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ৪৫ মিনিটে জীবাণুমুক্ত করা মেডিকেল বর্জ্য। অন্যটি ইনসিনারেশন। যেখানে সংক্রামক বর্জ্যউচ্চতাপে পুড়িয়ে ফেলা হয়।সম্প্রতি মাইক্রোওয়েভ নতুন আর একটি প্রযুক্তি এসেছে। তবে, আধুনিক এই প্রযুক্তি দেশের মাত্র কয়েকটি হাসপাতালে রয়েছে।
হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক জিয়াউল হক। মাটি ও বায়ু দুটোকেই বাঁচাতে ক্ষতিকর চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তাগিদ দেন পরিবেশবিদরা।














