

ভারতের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যবসায়ী গৌতম আদানির বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিনডেনবার্গ। এর পরপরই ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এইসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারতে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি। আদানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের এমপিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩’রা ফেব্রুয়ারি) সংসদের অধিবেশন ভণ্ডুল করে দিয়েছেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই নজির স্থাপন করলেন তারা। আদানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এত ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আনে হিনডেনবার্গ। এরপর থেকেই গ্রুপটির সব সংস্থার শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। তবে আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু মোদি সরকার এখনও চুপ করে রয়েছে। এদিন সকালের অধিবেশনে অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন বিরোধী নেতারা। এতে ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।
আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি বা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি প্যানেল গঠনের দাবি জানান বিরোধীরা। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে মাত্র কয়েকদিনেই আদানি গ্রুপের সব কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ১০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার পড়ে গেছে।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিনডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, আদানি গ্রুপ কয়েক দশক ধরে শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং তাদের হিসাব-নিকাশে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে আদানি গ্রুপ বলেছে, রিপোর্টে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে; সেগুলো অসত্য ও বিদ্বেষপূর্ণ। শুধু তাই নয়, এই রিপোর্টকে ‘ভারতের ওপর আক্রমণ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে তারা। কিন্তু আদানি গ্রুপের তাৎক্ষণিক ও শক্ত এই প্রতিক্রিয়ার পরও তাদের শেয়ারের দরপতন বন্ধ হয়নি। এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানি এক সপ্তাহ আগেও ছিলেন এশিয়ার এক নম্বর এবং বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি। কিন্তু হিনডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর তার নাম এখন শীর্ষ ১০ জন ধনী ব্যক্তির তালিকার বাইরে চলে গেছে।
আদানি গ্রুপ ভারতের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি। এই গ্রুপের প্রধান কোম্পানিটির নাম আদানি এন্টারপ্রাইজেস। নানা ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে তারা। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর পরিচালনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবসা। আদানি ইস্যুতে আগের দিনও (বৃহস্পতিবার) সংসদ অধিবেশনের সময় বাধা দেন বিরোধী দলের এমপিরা। এর আগে অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানান তারা। তাদের সেই দাবি সরকার প্রত্যাখ্যান করার পর সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিরোধী এমপিরা জানান, তাদের দাবি মানা না হলে সংসদ চলতে দেবেন না তারা। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, এ বিষয়ে তদন্তে কী হচ্ছে সেটাও প্রতিদিন জানাতে হবে।
বিরোধী কংগ্রেস আরো অভিযোগ করেছে, মোদি সরকার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আদানি গ্রুপে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি। বিরোধী কংগ্রেস ঘোষণা করেছে, সারাদেশে আদানি গ্রুপের যত কোম্পানি আছে, সেগুলোসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে আগামী সোমবার প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করবে তারা।
কংগ্রেসের নেতা কে সি ভেনুগোপাল অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাহায্য করছে।














