
ইসলাম ধর্মের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে ও সত্যবাণী প্রচারের লক্ষ্যে সারা দেশে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প করছে সরকার। এরই দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা রাজশাহী ও গাজীপুরে দুটি মডেল মসজিদ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এর আগে ২০২১’সালের ১০’জুন প্রথম ধাপে ৫০টি মসজিদ উদ্বোধন করেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকায় এসব মসজিদের উদ্বোধন ঘিরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মডেল মসজিদগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাসহ অজু ও নামাজের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে। এ ছাড়াও থাকবে হজ গমনেচ্ছুদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র ও ইসলামিক লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, দাফনের আগের আনুষ্ঠানিকতা, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, হিফজখানা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা, ইসলামি সাংস্কৃতিক সম্মেলন কক্ষ। কার্যক্রম এবং ইসলামি দাওয়াত, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, মসজিদের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি অতিথিদের জন্য একটি বোর্ডিং সুবিধা।
রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ীর পর এবার নগরীর উপশহরে নির্মিত হয়েছে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নির্মাণ শৈলীতে আধুনিক মসজিদটি নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। তারা জানান, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। যেটা আমাদের সন্তানদের জন্য খুব ভালো একটা বিষয়।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও ধুনটে দুটি মসজিদে নামাজের জায়গা ছাড়াও থাকছে লাইব্রেরি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমামখানাসহ আধুনিক নানা সুযোগ-সুবিধা। স্থানীয়রা বলছেন, সুযোগ-সুবিধা থাকায় এসব মসজিদে ভিড় বাড়বে মুসুল্লিদের।
কিশোরগঞ্জ সদর ও কটিয়াদী উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ দুটির উদ্বোধন ঘিরে খুশি মুসুল্লিরা। প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।জামালপুর সদর, মাদারগঞ্জ, বকশিগঞ্জ, সরিষাবাড়ী ও মেলান্দহে উদ্বোধন হচ্ছে ৫টি মসজিদ।
পাবনার ভাঙ্গুড়া ও সুজানগরে নির্মিত মসজিদে নারী-পুরুষের আলাদা নামাজের জায়গা ছাড়াও থাকছে হজ যাত্রীদের নিবন্ধন এবং ইমামদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এছাড়া নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন আটশো মুসুল্লি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো যেসব এলাকায় রয়েছে-ফরিদপুরের ভাঙ্গা, নগরকান্দা, গাজীপুরের কাপাসিয়া, গোপালগঞ্জের সদর উপজেলা, কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা, কটিয়াদী, মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, নরসিংদীর সদর উপজেলা, মনোহরদী, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা, জেলা সদর, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা, বগুড়ার ধুনট উপজেলা, নন্দীগ্রাম, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলা, পাবনার ভাঙ্গুরা, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলা, শেরপুরের সদর উপজেলা, পিরোজপুরে সদর উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও কসবা, খাগড়াছড়ির সদর উপজেলা ও মানিকছড়ি, কুমিল্লার চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম, খুলনার রূপসা, কুষ্টিয়ার খোকশা ও ভেড়ামারা, মেহেরপুর জেলা সদর ও গাংনী, সাতক্ষীরার দেবহাটা, সিলেটের গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জ জেলা সদর এবং জগন্নাথপুর, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা। জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে চালু হচ্ছে ৫০টি মসজিদ।














