দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই হঠাৎ করে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, মানুষের আয় না বাড়লেও বার বার এমন দাম বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোই এখন কষ্টকর। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক দাবি করে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব বলছে, এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন কঠিন হবে, তেমনি বাড়বে মূল্যস্ফীতি।
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। চলতি মাস থেকেই গুণতে হবে বাড়তি এই দাম। এতে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৯৪ পয়সা, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ৪ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ পর্যন্ত ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৫ টাকা ৭২ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ১ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৩০ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ৯ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা র্নিধারণ করা হয়েছে।
নিত্যপণ্যসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের তখন বিদ্যুতের এমন দাম বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষুব্ধ তারা। বার বার এমন দাম বৃদ্ধির চাপে জীবনযাত্রায় ব্যয় মেটানো কঠিন বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ক্যাব বলছে, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে একতরফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। ইতিমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়নসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। সবশেষ ২০২০ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল সরকার।














