শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না করোনা মহামারী। তীব্র শীতে আবারও ভাইরাসটির ওমিক্রন ধরনের একটি নতুন উপধরন ছড়িয়ে পড়েছে চীনের উহানে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘বিএফ সেভেন’। ভারতে চারজনের দেহেও এটি শনাক্ত হয়েছে। নতুন এই ধরন থেকে রক্ষা পেতে ভারতবাসীকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যও। নতুন ধরন নিয়ে এরই মধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস।

তবে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এখনও কোন সতর্কতা ঘোষণা করেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে মাস্ক পরে বাইরে চলাফেরা করতে বলেছে। চীনের যেই শহর থেকে করোনা মহামারীর শুরু, সেই উহান আবারও শিরোনামে। সেখানে মিলেছে করোনা ভাইরাসের একটি নতুন ধরন, যা ওমিক্রন ধরনের একটি উপজাত। এবারের ধরণটির নাম ওমিক্রন বিএফ সেভেন। জ্বর গলাব্যথা সর্দির কাশির মতো একই উপসর্গ নিয়ে হানা দিচ্ছে নতুন ধরণটি। উপসর্গ তীব্র না হলে, ধরনটি ভীষণ ছোঁয়াচে। এটির ক্ষতির মাত্রা এখনও অজানা। প্রাথমিক গবেষণা বলছে ভ্যাকসিন নেয়া মানুষও এতে সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। তিন ডোজ টিকা নেয়া মানুষও এই ধরনের আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এটি আবারও করোনার ভয়াবহ রুপকে হাজির করতে পারে। চীনের পর জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স,দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রাজিলে এর সংক্রমন বাড়ছে। সংস্থাটির সবশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেলো সাত দিনে বিশ্বে ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ হিসাবে দৈনিক ৪ লাখ ৯২হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এক সপ্তাহে আক্রান্তের হার তিন শতাংশ বেড়েছে। ওমিক্রনের নতুন উপধরন অতিসংক্রামক ও শনাক্ত করা কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টিকার কারণে গড়ে উঠা সুরক্ষাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারছে ধরনটি।

ভারতে করোনার বিএফ সেভেনে চারজন আক্রান্ত হবার পর স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে দেশটি। কেন্দ্রীয় সরকার এরিমধ্যেই রাজ্যগুলোকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। প্রতিবেশী দেশে সংক্রমণ বাড়লে বাংলাদেশেও সেই টেউ আছড়ে পড়ে। এ কারণে বাংলাদেশেও উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। মৃত্যুর সংখ্যাও শূণ্যের কোঠায়। তারপরও চীন-ভারতের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছে কতৃপক্ষ। করোনার চিকিৎসার জন্য তৈরি হওয়া মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালটি এখন প্রায় রোগী শূণ্য। প্রয়োজনে সেটি প্রস্তুত করা যাবে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে, অন্যান্য হাসপাতালকেও চিকিৎসা উপযোগি করে তোলার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সবার আগে দরকার মানুষের সচেতনতা।

দেশজুড়ে চলছে করোনার টিকা কর্মসূচি। যাতে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজের টিকা মিলছে সহজেই। তাই টিকা ও মাস্কেই ঝুঁকিমুক্ত থাকা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সেই সঙ্গে নতুন ধরনের সংক্রমণ এড়াতে এবং দেশের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে বন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে