স্বাধীনতার পাঁচ দশকের অর্জনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠলো বিজয় দিবসের প্যারেডে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। এসময় দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীও।বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে সশস্ত্র বাহিনী। প্রতিবারের মতো এবারও এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন।
রাষ্ট্রপতির পরিদর্শনের পর শুরু হয় বিজয় দিবসের প্যারেড। এর নেতৃত্ব দেন নবম পদাতিক ডিভিশনের মেজর জেনারেল মো. শাহীনুল হক।কুচকাওয়াজের শুরুতেই জাতীয় পতাকাসহ নানা পতাকা নিয়ে আকাশ থেকে নেমে আসেন প্যারাট্রুপাররা। এসময় দর্শক আসনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।স্বশস্ত্র বাহিনীর ২৩টি কন্টিনজেন্ট এবং পুলিশ, বিজিবি , আনসারসহ নানা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন এই কুচকাওয়াজে। এসময় প্রদর্শন করা হয় সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম। যা বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার পরিচয়।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীও যে এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী, নিজেদের সেই সক্ষমতাও প্রদর্শন করে তারা। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে। যা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ মুগ্ধ করে সবাইকে।এর আগে সকাল ১০টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছে মঞ্চের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আনুষ্ঠানিক একটি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে, অশ্বারোহী এবং মিলিটারি পুলিশের দল স্কট করে তাঁকে মঞ্চে নিয়ে যায়।এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকষ দল মঞ্চেলর সামনের দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানায়। তিনি সালাম গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিস্তৃত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি উদযাপন করছে ৫২তম বিজয় দিবস।১৯৭১ সালের এই গৌরবময় দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশের বিজয় সূচিত হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি














