তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার ব্যবসা না করে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে আমাদের শ্রম নির্ভর অর্থনীতিকে আজ শিল্প, সেবা ও প্রযুক্তি নির্ভরতায় রূপান্তরিত হয়েছে। বেসিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনের নীতিগত দাবিকে আমলে নিয়ে, এই খাতের কর্পোরেট ট্যাক্স অবকাশ সুবিধা আগামী ২০২৪ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং সংগঠনগুলো একই ভাষায় কথা বলছি। বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট উইং প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক বলেন, আমাদের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে মাত্র ৭ শতাংশ অটোমেশন হয়েছে। ২০৩০ নাগাদ সেটি ৩০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। আমাদেরকে সাবধানতার সাথে কর্মসংস্থান ঠিক প্রবৃদ্ধিতে রেখে এই অটোমেশন করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন স্মার্ট উৎপাদন, এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি খাত নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই স্মার্ট উৎপাদনকে বাস্তবায়ন করতে পারে। আগামী ১০ বছরে গার্মেন্টস খাত ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছাবে, এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোকে আমাদের চাহিদাগুলো পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ জানান, বেসিস সাতটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আমরা বিআইটিএমকে ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তরে করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা যদি সেটি করতে পারি তাহলে তাহলে গার্মেন্টস খাতের মতো তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও যোগ্য জনবল তৈরি সম্ভব হবে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশনে সরকারের সহায়তায় একটি সমন্বিত রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উইং করতে চায় বেসিস। আর পাবলিক প্রাইভেট পার্টশীপের ক্ষেত্রে একটি রোডম্যাপ জরুরী। সেক্ষেত্রে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সরকারের সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতার আহ্বান জানান বেসিস সভাপতি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেসিস কনট্যাক্ট সেন্টার’ এর উদ্বোধন। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনটির সদস্যরা যাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ও দ্রুততার সাথে বেসিসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ও সদস্যসেবা উন্নত ও কার্যকরী হয়, সেই লক্ষে বেসিস কনট্যাক্ট সেন্টারের জন্য বিটিআরসি অনুমোদিত শর্ট কোড (১৬৪৮৮) চালু করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলো এডিএন টেলিকম এবং ফ্লোরা টেলিকম।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে