
আফগানিস্তানে বেড়েই চলেছে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ। একের পর এক এলাকা দখল করে নিচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। দেশটির ৪৫০’জেলার এক তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে তালেবানদের দখলে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেবোরাহ লিওনস।
বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে, আফগানিস্তানে ততোই বাড়ছে তালেবানের আগ্রাসন। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা দখল করে নিচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। এরই মধ্যে আফগানিস্তানের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কান্দাহার আবারো দখল করেছে তালেবানরা। নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তাজিকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমান্ত শহর। তাদের হামলার মুখে বদখশান থেকে প্রতিবেশি দেশ তাজিকিস্তানে পালিয়ে গেছে ৩’শতাধিক আফগান সেনা।
আফগানিস্তানের আঞ্চলিক রাজধানীগুলো দখলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে তালেবান। কোনও প্রতিরোধ ছাড়াই সরকারি বাহিনীর সদস্যদের পালিয়ে যাওয়াকে নৈতিকতার অভাব বলে মনে করছেন বদখশান প্রদেশের কাউন্সিল সদস্য মহিব উল রাহমান। সেনাবাহিনীর মনোবলের অভাবের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। তবে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, তালেবানের কাছে এই পরাজয় সাময়িক। শিগগিরই এসব এলাকা আবার আফগান বাহিনীর দখলে আসব। তবে, কীভাবে তা করা হবে সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট জানানো হয়নি। এদিকে, ঘোষিত সময়সীমা সেপ্টেম্বরের মধ্যে ন্যাটোর সব সেনাকে আফগানিস্তান ছাড়তে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তালেবান। নির্ধারিত সময়ের পর আফগানিস্তানে কোনও বিদেশি সেনা থাকলে তাদের দখলদার হিসেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। তবে তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন জানান, কূটনীতিক, বেসরকারি সংস্থা কিংবা বিদেশি নাগরিকেরা তালেবানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে না। তাই, তাদের সুরক্ষায় কোন বাহিনীর প্রয়োজন নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, ১১’ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হবে। এর মাধ্যমে অবসান হবে দেশটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ন্যাটোর ২০ বছরের অভিযান।

























