রাজধানীতে বছর বছর বেড়েই চলছে বায়ুদূষণ, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ১০’দশমিক ২’ভাগ। যা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫’দশমিক ২’গুণ বেশি। দূষণ রোধে নির্মল বায়ু আইন পাশের দাবি জানিয়েছেন, নগর পরিকল্পনাবিদরা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘ঢাকা শহরের ৭০টি স্থানে বায়ু দূষণের মাত্রার পরিমাপ’ শীর্ষক স্টামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) বৈজ্ঞানিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। শহরের ৭০টি স্থানে জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা ও স্টামফোর্ড বায়ূমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র-ক্যাপস।
বায়ূ দূষণের দিক দিয়ে ২০১৯ ও ২০ সালে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ। আর দূষণের দিক দিয়ে শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় মেগাসিটি ঢাকা। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে ঢাকার ৭০টি পয়েন্টে বায়ূদূষণের মাত্রা ও কারণ অনুসন্ধানে জরিপ চালায় দুটি প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়, অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সব চেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ বায়ূ দূষণ হয়। এরপরই ইট ভাটা ও শিল্প কারখানার কারণে ২৯ শতাংশ। আর ১৫ শতাংশ বায়ূ দূষণ যানবাহনের কালো ধোয়া থেকে।
প্রতিবেদন বলা হয়, ঢাকায় প্রতি ঘনমিটারে ধুলিকনা পরিমান ছিল ৩৩৫ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে পাঁচগুনেরও বেশি। বায়ূ দূষণ রোধে ২ থেকে ৩ ঘন্টা পরপর পানি ছিটানোসহ বেশ কিছু সুপারিশ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো।
বায়ু দূষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, প্রাকৃতিক কারণগুলাের মধ্যে আবহাওয়াজনিত ও ভৌগলিক কারণ উল্লেখযােগ্য। মানবসৃষ্ট কারণগুলাের মধ্যে নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি, আইনের দুর্বলতা, আইন প্রয়ােগের সীমাবদ্ধতা অন্যতম কারণ। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজের জন্য ৩০ শতাংশ, ইটভাটা ও শিল্প কারখানায় ২৯ শতাংশ, যানবাহনের কালাে ধোঁয়ায় ১৫ শতাংশ, আন্তঃদেশীয় বায়ু দূষণে ১০ শতাংশ এবং গৃহস্থালী ও রান্নার চুলা থেকে নির্গত ধোয়া থেকে ৯ শতাংশ বায়ু দূষণ হয়ে থাকে। বায়ূ দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ বের করার দাবি জানান নগর পরিকল্পনাবিদরা।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ঢাকার সবচাইতে বেশি দূষিত এলাকা পুরান ঢাকা। কম দূষণ মোহাম্মদপুর, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। আর আশঙ্কাজনক হারে বায়ু দূষণ বাড়ছে ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী ও বাড্ডায়।



























