
নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতি। এ অবস্থায় চলতি বছর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস বারবার পরিবর্তন করছেন বিশ্লেষকরা। সব শেষ সুইজারল্যান্ডের মাল্টিন্যাশনাল বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, চলতি বছর ৯ শতাংশে উন্নীত হবে চীনের জিডিপি। গত বছরের এই সময় করোনার প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন ছিল চীনে। বন্ধ ছিল সব ধরনের শিল্প উৎপাদন কার্যক্রম । ফলে বছর শেষে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্রুতই করোনার প্রভাব কেটে যাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি থেকে।
বর্তমানে চীনের সব সূচক প্রবৃদ্ধির রেকর্ড করে চলেছে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির শিল্পোৎপাদন বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ। চীনা শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গেল দুই মাসে রপ্তানি বেড়ে ৪৬ হাজার ৮৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যা দেশটির দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে আমদানি ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩৬ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়। সামগ্রিকভাবে এ সময়ে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে দেশটি ৭১০ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছিল।
প্রণোদনার ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো। আগের বছরের তুলনায় এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা পণ্য আমদানি বাড়িয়েছে ৮৭ ও ৬৩ শতাংশ।
ইউবিএস আশা করছে, ২০২১ সালে ডলারের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ১৬ শতাংশ বাড়বে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতিও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি চীনের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বাড়বে। যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। ইউবিএসের মতে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তবে সতর্কতা রয়েছে, ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন এবং টিকাদান কার্যক্রমে ধীরগতিসহ বিশ্বজুড়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণে অনিশ্চয়তা। যা বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























