২৪-এর জুলাই আন্দোলনে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ ও গণদাবি দমনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কীভাবে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা ও কল রেকর্ড
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলন দমনে তথ্যপ্রবাহ রুখে দিতে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে সরাসরি ফোন করে ইন্টারনেট স্লো (ধীরগতি) করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া এই কল রেকর্ডটি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার অনুমোদন ও ধাপে ধাপে ব্ল্যাকআউট
ওবায়দুল কাদেরের প্রাথমিক নির্দেশের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি অনুমোদনে ইন্টারনেটের গতি কমানো হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মারণাস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের তথ্য গোপনের চেষ্টা
প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়েছিল। এসব দমন-পীড়নের তথ্য ও ভিডিও যাতে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করা হয়েছিল।
মামলার সার্বিক অগ্রগতি
ওবায়দুল কাদের, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে এই অডিও রেকর্ডটি রোববার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
