যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারো কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তার জয়ের বিকল্প থাকতো না। কিন্তু ভোট জালিয়াতি করে তাকে হারানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তবে তিনি বলেছেন বিভিন্ন রাজ্যে তারা আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন দাখিল করেছেন। তার দাবি ডাকযোগে দেরিতে আসা ভোটও ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এসময় আবারো নিজেকে জয়ী দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তবে ট্রাম্পের নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন পর্যবেক্ষকেরা। তার রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি করেছেন নেভাডার অ্যাটর্নি জেনারেল। এরআগে একই দাবি করেন অন্যরাজ্যের কর্তৃপক্ষও। তিনি বলেন আইন-সম্মত ভোট গুনলে তিনি সহজেই বিজয়ী হয়েছেন।যদি তার ভাষায়, বেআইনি ভোট গণনা হয় তাহলে তাদের কাছ থেকে নির্বাচন চুরি করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তিনি অনেক ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরে রহস্যজনক ভাবে অনেক নতুন ভোট গোনা শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, এখানে নির্বাচন শেষ হবার পর ভোট পাঠানো হয়েছে, বেআইনি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে, গোপনে ভোট গণনা হয়েছে, ভোট কেন্দ্রে রিপাবলিকান দলের পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে তার এসব দাবীর পক্ষে তিনি কোন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে প্রকাশিত জনমত জরীপের তীব্র নিন্দা করে বলেন যে, তার সমর্থকদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে জো বাইডেনকে এগিয়ে দেখিয়ে এসব জরিপ প্রচার করা হয়েছিল।

নির্বাচনের আগে বেশির ভাগ জরিপে দেখা গিয়েছে বাইডেন দেশব্যাপী এগিয়ে। অনেক পর্যবেক্ষক ধারণা করেছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিপুল বিজয় হবে। ট্রাম্প কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয় মানার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমেরিকান টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস ট্রাম্প নির্বাচনী কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রিপোর্ট করেছে যে, জো বাইডেন জয় ঘোষণা করলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেবেন, তেমন কোন পরিকল্পনা প্রেসিডেন্টের নেই। একটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জয়ী হবেন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সিবিএস বলে। চার বছর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। তিনি এখন একই অভিযোগ তুলছেন। তার নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোট জালিয়াতির কথা বলছেন এবং একটি বিবৃতি দিয়েছেন, তারা আমাদের কাছ থেকে নির্বাচন চুরি করতে পারে তবে তারা বলেননি এই অভিযোগ কিসের ভিত্তিতে করা হচ্ছে।

ওয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের দফতর ওয়েস্ট উয়িং-এ অফিস ঘরগুলো বেশ নীরব। ওয়াইট হাউস উপ প্রেস সচিব ব্রায়ান মর্গেনস্টার্ন দিন-রাত কাজ করে চলছেন (আমাকে বললেন, তিনি রাতের উচ্ছিষ্ট মুরগী ফ্রাই দিয়ে সকালের নাস্তা করেছেন)এবং কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে তিনি বলেন, আমরা সবাই স্রোতের সাথে চলছি। এখানে মনে হচ্ছে না কেউ চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অফিস ডেস্ক গুলোতে চিঠি-পত্রের স্তূপ পরে আছে আর ওয়াইট হাউসের লোগো যুক্ত কাগজের কফি কাপ ছড়িয়ে আছে। পেছনে সিএনএন চলছে একটি টেলিভিশন স্ক্রিনে তাদের ঘোষণা জয়ের প্রান্তে বাইডেন। অন্তত এই অফিসে কেউ ঐ রিপোর্ট আমলে নিচ্ছে না। তারা নিজেদের মধ্যে গল্প করছেন, টেলিফোন কলের উত্তর দিচ্ছেন আর আরেটি দীর্ঘ রাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে