যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেশিরভাগ রাজ্যের ভোট গণনা শেষ। ফলাফলের পূর্বাভাস দিচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে কয়েকটি সুইং স্টেটের ওপরে। কিন্তু এবার ব্যাপক মেইল ভোটের কারণে চূড়ান্ত ফল পেতে দেরি হতে পারে। ফলে নির্বাচনে জেতার আশা ছাড়ছে না কোনো পক্ষ।
বুথ ফেরত জরিপে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি রাজ্যে জয়ের পথে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। ২৩৮ ইলেকটোরাল ভোটে এগিয়ে আছেন বাইডেন। ম্যাসাচুসেটস, কানেটিকাট, মেরিল্যান্ড, নিউজার্জির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে জয় পেতে যাচ্ছেন বাইডেন। যার মধ্যে নিজের অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়ার রয়েছে। তার জন্য বড় পুরস্কার নিউইয়র্ক ও মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি।
অন্যদিকে ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ইন্ডিয়ানা, অকলাহোমা, কেনটাকি, টেনেসি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াসহ ২২ রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পূর্বাবভাস দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ। ট্রাম্প এগিয়ে ২১৩ ইলেকটোরাল ভোটে। যে প্রার্থী ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট পাবেন তিনিই পাবেন হোয়াইট হাউজের আসন। এরইমধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র সময় মধ্যরাতে ব্রিফিংয়ে আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট দেয়ার জন্য আমেরিকান জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে হোয়াইট হাউজের ইস্ট রুম থেকে বক্তৃতা দেন তিনি। নিজেকে বিজয়ী দাবি করে ট্রাম্প বলেন, আমরা বিজয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, সত্যি কথা বলতে, আমরাই বিজয়ী হয়েছি। এরপর তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। এটা আমেরিকান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা দাবি করে তিনি জানান, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে লড়াই করতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা চাই নির্বাচনের দিন পার হওয়ার পর সব ভোট গণনা বন্ধ হোক।
মধ্যরাতের ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প আরো বলেন, আমরা জিতব এবং আমরা এরইমধ্যে জিতে গেছি। পেনসিলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, অ্যারিজোনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে তার দল এগিয়ে আছে। জো বাইডেন এসব অঙ্গরাজ্যে তাকে ছুঁতে পারবে না। তিনি বলেন, ভোটের দিনের পরে ডাকযোগে ভোট নেয়া ও ভোট গণনা অবৈধ। এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভোট জালিয়াতির চক্রান্ত। ভোট গণনা বন্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন। এর আগে ডেলাওয়ারের উইলমিংটনের চেজ সেন্টারে ভাষণ দেন জো বাইডেন। এ সময় বিপুল সমর্থনের জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বাইডেন বলেন, আমরা জয়ের পথে রয়েছি। সব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখন আমাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। বক্তৃতায় বাইডেন বলেন, প্রতিটা ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটার (নির্বাচনী প্রক্রিয়ার) সমাপ্তি হবে না। আমরা যে অবস্থায় রয়েছি, তাতে আমরা আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, আমরা অ্যারিজোনায় জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এর মধ্যেই মিনেসোটায় জয় পেয়েছি। জর্জিয়াতেও আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে। মিশিগানে জয় পাওয়ার ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী। পেনসালভানিয়াতে ভোট গণনা শেষ হতে সময় লাগবে। সব ভোট গণনা শেষ হলে সেখানেও আমরা জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বাইডেন আরো বলেন, আমরা আগামীকাল সকাল নাগাদ পুরো ফলাফল পেতে পারি। তবে এটা আমার বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নয় বলা যে কে বিজয়ী হবে। এটা আমেরিকান জনগণের সিদ্ধান্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করে টুইট করেছেন। টুইটে তিনি বলেন, আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, কিন্তু তারা নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে। আমরা কখনোই তাদের সেটা করতে দেবো না। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে ভোট গ্রহণ করা যায় না। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি কোন তথ্যপ্রমাণ দেননি।এদিকে মধ্যরাতেই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন। মিছিলের কারণে শহরের অনেক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, আমরা যদি বিচার না পাই, তাহলে তোমরা শান্তিও পাবে না। বেশিরভাগ স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চললেও হোয়াইট হাউজের বাইরে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। মিনেসোটায় প্রায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক জায়গায় টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়। লস অ্যাঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, পোর্টল্যান্ড, ওরেগন এবং নিউ ইয়র্ক শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কায় আগে থেকেই বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট তালাবন্ধ করেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও টেক্সাস নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। বাইডেন ভার্জিনিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে জিতেছেন। এর আগে হিলারি ক্লিনটনও এ দুই জায়গায় জিতেছিলেন। দুই পক্ষই তাদের প্রত্যাশিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে জিতবে বলে মনে করছে। তবে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে আরো কঠিন লড়াই হতে পারে। কিছু কিছু রাজ্যের ফলাফলের জন্য আদালতের দারস্থ হওয়ারও প্রয়োজন পড়তে পারে। এখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলো তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব ফলাফল দিচ্ছে তাতে একধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দখলে থাকা অ্যারিজোনায় জিতেছেন বাইডেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। যদি এ তথ্য নিশ্চিত হয় তবে পুরো ভোটচিত্র বদলে যেতে পারে। তবে অন্য কোনো গণমাধ্যমে অ্যারিজোনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি। রিপাবলিকান গভর্নর ডগ ডসি বলেছেন, ফলাফল নিয়ে এখনই কথা বলার সময় আসেনি।
অনেক আগে থেকেই ট্রাম্প ফ্লোরিডায় জিতে গেছেন বলে গণমাধ্যমগুলোতে তুলে ধরা হচ্ছে। নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার ফলাফলও পরিষ্কার করা হয়নি। এখন পর্যন্ত সেখানে ৯৫ ও ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা যে ব্যাপক জয়ের আশা করেছিলেন, ফলাফলের প্রাথমিক চিত্রে তা প্রতিফলিত হয়নি। ফ্লোরিডায় তাঁরা জিততে পারলে চিত্র অন্য রকম হতে পারত। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুই পক্ষের ভোটযুদ্ধ শেষতক সুইং রাজ্যগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ


























