মুসলিমবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে ফরাসি পণ্য-সামগ্রী বর্জনের ডাক দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইসলামের বিরুদ্ধে প্যারিসের বিতর্কিত অবস্থানের কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতির মাঝে সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই ডাক দিলেন। এরদোয়ান বলেন, ফ্রান্সে বলা হয়েছে তুরস্কের লেবেলযুক্ত পণ্য-সামগ্রী কিনবেন না। আমি তুরস্কের সব নাগরিককে একই আহ্বান জানিয়ে বলছি, কখনই কোনও ফরাসি ব্র্যান্ডকে সহায়তা করবেন না অথবা ফ্রান্সের লেবেলযুক্ত পণ্য সামগ্রী কিনবেন না।

তুরস্কের আমদানির দশম এবং রফতানির সপ্তম বৃহত্তম উৎস হলো ফ্রান্স। তুরস্ক যেসব পণ্য ফ্রান্স থেকে আমদানি করে সেসবের মধ্যে সর্বাধিক বিক্রিত অটো-সামগ্রী। এসময় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অবস্থানের সমালোচনাও করেন এরদোয়ান।

উল্লেখ্য, মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের জেরে এক মুসলিম উগ্রবাদী কর্তৃক একজন ইতিহাস শিক্ষককে হত্যার পর থেকেই উত্তপ্ত ফ্রান্স। ওই ঘটনার পর অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার এ ঘোষণায় মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট । তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর আঙ্কারা থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফ্রান্স।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম দেশগুলোতে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে জনগণকে ফরাসি পণ্য চিহ্নিত করার উপায় বাতলে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা। বর্জনের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যেই কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেটের সেলফ থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফরাসি পণ্য বর্জনের দাবিতে টুইটার হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও। এমন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ফরাসি পণ্য বর্জন বন্ধের আহ্বান জানালো ফ্রান্স।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে