রমনা বটমূলে বর্ষবরণ উৎসবের ৫০ বছর পূর্তি পালন করছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। এক সময় ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত সঙ্গীতায়োজনটি, কালের পরিক্রমায়, রমনার বটমূল থেকে ছড়িয়ে গেছে দেশের সব জেলা শহরে, উপজেলায় এমনকি গ্রামেও। হয়ে উঠেছে নাগরিক বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম অংশ। ছায়ানট মনে করে, দেশে প্রতিক্রিয়াশীলতার উত্থানের পেছনে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ব্যর্থতা অনেকাংশেই দায়ী। এই অপশক্তি মোকাবিলায়, দেশের সব সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে এক হয়ে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই বলেও মত তাদের।

সঙ্গীতকে অবলম্বন করে বাঙালির সংস্কৃতি সাধনার সমগ্রতাকে বরণ ও বিকশিত করতে পথচলা শুরু করে ছায়ানট। ৫০ বছর আগে, বাংলা ১৩৭৪ সালে, খুব ছোট্ট পরিসরে বাংলা নববর্ষ বরণ উৎসব শুরু করে সংগঠনটি। কালের পরিক্রমায় এই উৎসবই যেন হয়ে উঠেছে নাগরিক বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ। সেই সময় থেকে যারা এই আয়োজনের সাথে জড়িত, তারা স্মৃতিচারণ করলেন পথচলার প্রারম্ভের সেই দিনগুলোর।
সংস্কৃতি চর্চায় দেশীয় ঐতিহ্য আর প্রকৃতিমুখী হওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ছায়ানট। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ সংগঠনটিকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক কঠিন পথ। স্বাধীনতার আগে তো বটেই, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশেও কম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়নি এই সংগঠনটিকে।

সমস্ত বাধাবিঘ্ন তুচ্ছ করে, ক্রমেই ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হয়েছে বর্ষবরণের আয়োজন। রমনার বটমূল থেকে ছড়িয়ে গেছে দেশের সব জেলা শহরে, উপজেলায় এমনকি গ্রামে। সঙ্গীত সংস্কৃতির চর্চাসূত্রে জাতির শৈল্পিক ও মননশীল মেধার সম্মিলন ও অনুশীলনে কতটা সফল হয়েছে এ আয়োজন– উত্তরে যেন কিছুটা আক্ষেপ পাওয়া গেল সভাপতির কণ্ঠে। তিনি মনে করেন, দেশে জঙ্গিবাদ, প্রতিক্রিয়াশীলতার উত্থান কিংবা সম্প্রীতির বাংলাদেশের ভিন্ন চিত্র– এসব মোকাবিলা করতে হবে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ



























