নতুন পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে ভারত। ৮শ’ ৬১ দশমিক ৯০’কোটি টাকার সর্বনিম্ন দরপত্র দিয়ে ভবন তৈরির কাজ পেয়েছে ‘টাটা প্রজেক্টস। ত্রিকোণাকার নতুন এই পার্লামেন্ট ভবনের কাজ সম্পন্ন করতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২১ মাস। বুধবার দেশটির কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। ভারতের বর্তমান পার্লামেন্ট ভবনটি ইংরেজদের শাসন আমলের তৈরি। বৃত্তাকার এই ভবনের পাশে ১১৮ নম্বর পার্লামেন্ট হাউস এস্টেটে নতুন ভবনটি তৈরি করা হবে। যেটি দেখতে হবে ত্রিভূজ আকৃতির।

সেন্ট্রাল ভিস্টা রিডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট-এর অধীনে পার্লামেন্ট ভবন-সহ রাষ্ট্রপতি ভবন, নর্থ ও সাউথ ব্লক, ইন্ডিয়া গেট, ন্যাশনাল আর্কাইভ-সহ দিল্লির পুরাতন ভবনগুলি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। এসব কাজের মধ্যে পার্লামেন্ট ভবন তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছিল আটশ’ ৮৯ কোটি টাকা। এখন আটশ’ ৬২ কোটি টাকাতেই কাজের দরপত্র দিতে পেরেছে দেশটি।

জানা গেছে, পার্লামেন্টে থাকবে ৯০০ থেকে ১২০০ মেম্বারের বসার আসন। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট, তিন কিলোমিটার জুড়ে হবে সেন্ট্রাল ভিস্টা। কিন্তু দেশের এই অর্থনৈতিক অবস্থায় কেন নতুন করে পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ? পূর্ত দফতর বলছে, বর্তমান ভবনটি সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সংস্কারের পরে পুরনো ভবনটি অবশ্য অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই সময় সরকারের যুক্তি ছিল, বর্তমান ভবনের কাঠামোটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি। ফলে বহুদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, তাই এই ভবনটি অনেকটা মেরামতির প্রয়োজন। যদিও নতুন ভবন নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। নতুন পার্লামেন্ট ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব বিনা টেন্ডারে কেন গুজরাটের ‘আর্কিটেক্ট’ বিমল প্যাটেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধী শিবির৷ এই নকশা তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিমল প্যাটেলের সংস্থা এইচসিপি-কে ২৩০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় ‘কনসালটেন্সি ফি’ হিসেবে৷ এই টাকার পরিমাণ কী ভাবে স্থির করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা৷ এই ক্ষেত্রে বিমল প্যাটেলের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে কেন সব দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হল না, তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ব্যক্ত করেছিল বিরোধী শিবির।

বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, গ্লোবাল টেন্ডার না ডেকেই নতুন পার্লামেন্ট ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গেরুয়া শিবিরের ‘স্নেহধন্য’ গুজরাটের নির্মাণ ব্যবসায়ী বিমল প্যাটেলের হাতে। প্রাথমিক ভাবে ৬টি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পান এই বিমল প্যাটেলের ‘এইচসিপি ডিজাইন’ সংস্থার ভাগ্যেই, অভিযোগ বিরোধীদের।

নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির কাজ শেষ করতে হবে ২০২২ সালের গোড়ার মধ্যে৷ সূত্রের খবর, এই নতুন ইতিহাস গড়ার দিনক্ষণ বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, নতুন ভবনের সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখও স্থির করে ফেলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই৷ দেশের স্বাধীনতার ৭৫ তম বছরে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনই প্রধানমন্ত্রীর হাতে যাতে নতুন পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধনের কাজ করা সম্ভব হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সরকারের শীর্ষ স্তর।

পার্লামেন্ট ভবন বানানোর কাজের জন্য প্রাথমিক বাছাই শেষে মোট সাতটি সংস্থাকে চূড়ান্ত দরপত্রের জন্য নির্ধারিণ করা হয়েছিল। যেখানে টাটা প্রজেক্টস ছাড়াও লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, আইটিডি সিমেন্টেশন ইন্ডিয়া লিমিটেড, এনসিসি লিমিটেড, সাপুরজি-পালনজি, উত্তরপ্রদেশ রাজকীয় নির্মাণ নিগম ও পিএসপি প্রজেক্টস-এর মতো সংস্থা ছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে কম দরপত্র দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ পেয়েছে টাটা গোষ্ঠী। টাটার পরেই লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো দর দিয়েছিল আটশ’ ৬৫ কোটি টাকা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে