প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে কতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেই সংখ্যা নিয়ে শনিবার থেকেই শুরু হয় বিভ্রান্তি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা এটাকে দেখছেন দুঃখজনক ও অপেশাদারি আচরণ হিসেবে। সংখ্যাতাত্ত্বিক এ ভুল বোঝাবুঝির অবসান করে দু’দেশের জনগণের সামনে ব্যাপারটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। পরে, এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ-ভারত মোট ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। ঐদিনই ভারতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের জানান, এ সংখ্যা মোট ৩৬টি। আর, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে, শনিবার থেকেই ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের তালিকা দিয়ে দেয়া হয়। দিনশেষে, যৌথ বিবৃতি’র ৫৯ নম্বরে বলা হয়েছে, মোট ৩৪টি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষর হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে, চুক্তি বিষয়ে কোন ধরনের সংখ্যা বা তালিকা দেয়া হয় নি। সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাক্ষরিত হওয়া দ্বিপাক্ষিক দলিল নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকে দুঃখজনক ও অপেশাদারি আচরণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘চুক্তি ২২টি নাকি ৩৬টি এটি নিয়ে যে আলোচনা সেটি দু:খ জনক। জনগণের কাছে যদি ব্যাপারটি পরিষ্কার না করা হয় এক ধরণের সন্দেহ আসে। সাবেক কূটনৈতিকদের মতে, রাষ্ট্রীয় এ সফরে অধিক সংখ্যক কর্মসূচি থাকায় এক ধরনের অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সাবেক আরেক কূটনীতিক মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, ‘এত অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো চুক্তি হয়েছে যার হিসেব অন্য কাউকে দিতে পারছে না। এটাকে আমি এই সফরের দুর্বলতা বলবো। এই সফর টা কিন্ত বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট করেনি, ম্যানেজমেন্ট করেছে ভারত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশের জন্য আলাদা আলাদা ডেক্স স্থাপনের পরামর্শ তাদের। অধিক সংখ্যক চুক্তি স্বাক্ষরই নয়, তা বাস্তবায়নের জন্য দু’দেশের সরকারের আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে