সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাকরির সুযোগ দিয়ে প্রতিবন্ধীদের সূক্ষ্ম মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১০ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। বিভিন্ন ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের বিকাশ তরান্বিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১০ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় ৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অটিজম সচেতনতা দিবসের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন- সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কাজের সুযোগ করে দিতে হবে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্নদের।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দিতে ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিস’ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে।
ভালবাসা, উৎসাহ আর যুগপোযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অটিস্টিকরাও দেশের মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাদের এগিয়ে নিতে অবহেলার দৃষ্টি বদলে সমাজের সব শ্রেণীকে এগিয়ে আসার পরামর্শ বিশিষ্টজনদের। এদিকে সমাজের মূলধারায় তাদের ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের।
অটিস্টিক শিশু কিশোরদের সুন্দর জীবনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে অসংখ্য স্কুল। তবে তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে সমাজের মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন। অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মত সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে প্রতি ৫০০ জন শিশুর একজন অটিস্টিক। এসব শিশুদের নাচ, গান, পড়াশোনাসহ নানান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামাজিকভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে যুগপোযোগী ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে এসব শিশুদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।














