দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েও রেহাই পেলেন না জিম্বাবুয়ের ওবাদিয়াহ মোয়াকে। তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা। এর আগে বিরোধী দল অভিযোগ করেছিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস রোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) কেনায় বড় ধরনের অনিয়ম করেছেন। খবর আল জাজিরার।

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার মোকাবেলায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমাগ্রীসহ (পিপিই) অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সমাগ্রী কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে স্লোভেনিয়ার অর্থমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি একই অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।বিবিসি।

কভিড-১৯ লকডাউন ভাঙার দায়ে দেশের সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানকে রাতারাতি সরিয়ে দিলেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। লকডাউন নিয়ে এমন কড়া অবস্থান নিতে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখা যায়নি। এই তিন প্রধানের ভূমিকায় তিনি যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের মধ্যেই পরিষ্কার। তিনি প্রকাশ্যে সে কথা জানিয়েছেনও। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তার কাছ থেকে এই আচরণ কাঙ্ক্ষিত ছিল না। করোনা ভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে তাঁরা তিনজনই দেশের জন্য বাজে উদাহরণ তৈরি করেছেন।’ এই করোনা সংকটের মধ্যে সামরিক বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লকডাউন অগ্রাহ্য করে তাঁর ছেলের বিয়েতে বড় করে পার্টি দেন। দেশে যে সামাজিক সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ রয়েছে, সামরিক বাহিনীর প্রধান তা মাথায় রাখেননি। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ এটাই। সূত্র : এই সময়।

করোনাভাইরাসের মহামারি কালে লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গ করে সমালোচিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন।

বাংলাদেশে একটা করে চমৎকার ঘটনা ঘটে, ঘটার পর হইচই পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তা মহাশয়দের কথা মালার ফুলঝুরি ঝরান, বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, আশ্বাস দেন।পত্রিকায় কখনো কখনো বের হয় কোথায় অনিয়ম হয়েছে তাঁর লম্বা ফিরিস্তি।এর মধ্যে দিয়ে সময় বহিয়া যায়। ছোট্ট দেশ, কোটি কোটি মানুষ, চলে আসে নতুন ঘটনা। পুরনো ঘটনা ততক্ষণে থিতিয়ে,এ যেন -“চোখের আড়াল হলেই মনের আড়ালে “। অনিয়ম বহাল তবিয়তে থাকে, সেগুলোর কোনো সুরাহাও হয় না। অনিয়ম আরও বেড়ে যায়।চল একটু কবিতার ভাষায় বলি-

“ভাবছো তুমি একাই বোঝ?
করছো যে পাপ-
সেই পাপেরই নিচ্ছো অন্যের হিসাব,
ভাবছো তুমি –
অন্যের পাপের মহাসাগরে-
তুচ্ছ তোমার পাপ।
ভাবছো তুমি –
সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে –
সৃষ্টি করবে জনমত ,
এগুবে সামনে- আরো…আরো সামনে
থামবে একদম পাপের উঠোনে,
হয়ে যাবে নেতা।”

ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচানোর আইনটি ছিল কালো আইন। কিন্তু তা আজ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে।ততদিনে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে খারাপ কাজ,খারাপ মানুষ কে প্রশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতি।কোন একজন খারাপ কাজ করলে পুরা সরকার নিশ্চয়ই দ্বায়ী নয়।অথচ প্রচলিত ধারণা একজনের মন্দ সত্য প্রকাশ পেলে সবার ক্ষতি হবে।সরকারই ক্ষমতায় আর থাকতে পারবে না।যার ফলস্বরূপ রাষ্ট্র নামক দেহে খারাপ মেদ জমতে জমতে কোথায় আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

“বিকারগ্রস্ত মানুষের মন
বিকারগ্রস্ত মূল্য বোধ
বিকারগ্রস্ত বিবেক বিবেচনা
বিকারগ্রস্ত ই আজ সমাজের স্বাভাবিকতা।

কোথা থেকে কোথা থেকে শুরু করবো,
স্বার্থের দ্বন্দে খুন হল নিরীহ ছেলেটি
বিচারের ময়দানে নাম আসলো ফুটবলের,
ফুটবলটি যিনি লাথি মারলেন
থেকে গেলো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে,
তদন্ত রিপোর্ট টি তো বিকারগ্রস্তের কবজিতে।

কোথা থেকে কোথা থেকে শুরু করবো,
ক্ষমতা আমার পুঁজা, ক্ষমতা আমার সব সময় চাই,
সুযোগ এলো বিকারগ্রস্ত দলবাজির
টাকার খেলায় চলে গেল সব বিবেক হীন মানুষের পকেটে
চারিদিকে বিকারগ্রস্তরা পদাসন, পদে আসন নয়।

কোথা থেকে কোথা থেকে শুরু করবো,
বিচার হীনতায় বিকারগ্রস্ত হল একে একে কলম সৈনিক
খবরে পাতায় তেল আর তোষামোদি,
ভেঙে পড়তে লাগলো জাতির বিবক বিবেচনা।

কোথা থেকে কোথা থেকে শুরু করবো,
বিকারগ্রস্ত শরীরের সকল কলকব্জা,
তাই তো শুরু হল
ভাই ভাই সকলে জোট বেঁধে
মিলে মিশে কারবারি
হারি জিতি লাজ নাই।

কোথা থেকে কোথা থেকে শুরু করবো,
ভাসছে আজ বিচারকের কলম,
ভাসছে আজ ডাক্তারের বিকেক,
ভাসছে আজ শিক্ষকের শিক্ষা,
ভাসছে আজ শিল্পীর শৈল্পিককতা,
ভাসছে আজ নেতার নেতাগিরি,
বিকারগস্ত ই আজ স্বাভাবিক রেওয়াজ।

বিক্রি হচ্ছে আদর্শের বাণী,
বিক্রি হচ্ছে মানবতা,
মঞ্চে সেরা অভিনেতা,
অভিনেতারা ই দেশপ্রেমিক,
প্রশ্ন কর্তা গণশত্রু।
হে জননী তুমি কোথায়?
হে জননী তুমি শুনেছো,
বিকারগ্রস্ত তাই আজ স্বাভাবিকতা।”

যারা অনিয়ম গুলো করছে তারা তো অন্যায়কারী, এই অনিয়মে যারা মদদ দিচ্ছে, যাদের কারণে অনিয়ম গুলো প্রশ্রয় পাচ্ছে, যাদের কারণে অনিয়ম গুলোর ব্যাপকতা বাড়ছে তাঁদেরকে শাস্তির আওতায় আনবে কে? তারা কি আইনের উর্ধে? আর এই ব্যর্থতার জন্য কি বাংলাদেশে পদত্যাগের সংস্কৃতি চালু হবে? কেউ কি পদত্যাগ করে দেখাবেন যে তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন?

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রথম অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। আর পরে পদত্যাগ করেন তার পুত্র সোহেল তাজ। পদত্যাগ করেন সৈয়দ আবুল হোসেন। গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. আতিউর রহমান। উল্লেখ্য সকালেই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।।

কাজী বর্ণ উত্তম-লেখক ও কলামিস্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে