শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায়, কলকাতা|| গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই ফোনের ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করে চীনে তথ্য পাচার করার গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে ভারতের বাজারে থাকা চায়না স্মার্টফোন Xiaomi-র বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ ইন্টারনেট সুরক্ষা বিশেষঞ্জ মহলের।
জানা গেছে, এই স্মার্টফোন-র সংগ্রহিত সমস্ত ডেটা নিরবে চলে যায় চিনা সংস্থা আলিবাবার সার্ভারে। চিনা সংস্থার তৈরী এই ‘Xiaomi’ নামের স্মার্টফোনটি ভারতের বাজারে বর্তমানে প্রথমসারির স্মার্টফোন হিসেবে পরিচিত। সেই সুবাদে তাদের মাধ্যমে ভারতের বাজারে থাকা আলিবাবা নামের আর একটি সংস্থা অতি কৌশলে ভারতের সকল ক্রেতাসাধারণের যাবতীয় তথ্যসমস্ত সংগ্রহ করছে। দির্ঘদিন ধরেই তারা এই তথ্য পাচার অব্যাহত রেখেছে।
Xiaomi-র বিরুদ্ধে ব্রাউজিং-র মাধ্যমে ডেটা আলিবাবার সার্ভারে পাঠানোর ব্যাপারটি সম্পর্কে স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষক গাবি সার্লিগ ও অ্যান্ড্রু টিয়ের্নি।এ ছাড়াও সম্প্রতি জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন-ও এই বিষয়টি সম্পর্কে রিপোর্ট করেছে। ঐ দু’ই ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষকের দাবি, স্মার্টফোনে থাকা ওয়েব ব্রাউজারের তথ্যের পাশাপাশি ‘ইনকগনিটো’ মোডের ব্রাউজিং (যেটিকে বলা যায় একরকম ছদ্মবেশী মুড অর্থাৎ ইন প্রাইভেট ব্রাউজিং) আলিবাবার সার্ভারে Xiaomi-এর পাঠানো সকল তথ্য আতি সন্তরপণে চিনে পাচার করা হয়। চিনা স্মার্টফোন এই Xiaomi-র বিরুদ্ধে সার্লিগ ও টিয়ের্নি অভিযোগ করে জানিয়েছেন, চিন থেকে এই তথ্য রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সার্ভারেও চলেযায়।
শুধু ব্রাউজিং ডেটাই নয়, স্মার্টফোনে কোন ফোল্ডারে কোন তথ্য রয়েছে বা সেটি কখন খোলা হচ্ছে, সেইসব তথ্যও পাচার করা হচ্ছে। এই দুই ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষকের দাবি, Google Play Store থেকে Xiaomi Browser ডাউনলোড করলেও বহু ডেটা ও সরাসরি সার্ভারে চলে যাচ্ছে। সার্লিগ ও টিয়ের্নির জানান, এ পর্যন্ত Play Store থেকে প্রায় ১.৫ কোটি বার এই ব্রাউজার ডাউনলোড করা হয়েছে।
ভারতের বাজারে থাকা বেইজিংয়ের এই ফোন সংস্থা Xiaomi-র বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য এই প্রতিনিধি সংস্থার সদর দপ্তরে যোগাযোগ করলে বড় সড় কোন অধিকারক-কে না পেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যম সারির এক কর্তা এই অভিযোগর বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে Xiaomi-র পক্ষে সে জানায়, গ্রাহকের পরিচয় গোপন রেখে ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করা হয় ঠিকই, কিন্তু এই ডেটা অন্য সংস্থার সঙ্গে কখনও শেয়ার করা হয় না। তিনি জানায়, এটা ইন্টারনেট বিশেষঞ্জদের মনগড়া অভিযোগ।
ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচিত ঐ স্মার্টফোন সংস্থা ও আলিবাবা-র বিরয়দ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করা, সত্যতা প্রমাণিত হলে ভারতের বাজার থেকে তাদের বহিষ্কার করতে হবে। এই দাবী জানিয়েছে ভারতের জনগণ।
কলকাতা নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























