ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে মাতৃভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখারও তাগিদ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ইতিহাসকে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে। তবে দেশের মানুষ যেন প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে এ কারণেই বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোথাও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না। এরইমধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত ৪ হাজার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের ৪টি খণ্ড প্রকাশ করা হয়েছে। ৫ম খণ্ড প্রকাশ করারও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এ বছর একুশে পদক পাওয়া ২০ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারটি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, একটি সম্মাননাপত্র এবং ২ লাখ টাকা করে দেয়া হয়। এবার পদক পাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন ভাষা আন্দোলনে মরহুম আমিনুল ইসলাম বাদশা, শিল্পকলায় (সংগীত) ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, অভিনয়ে এস এম মহসীন, চারুকলায় শিল্পী ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে মরহুম হাজী আক্তার সরদার, মরহুম আব্দুল জব্বার ও মরহুম ডা. আ আ ম. মেসবাহহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম ও হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে নুরুন নবী, মরহুম সিকদার আমিনুল হক এবং বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি, চিকিৎসায় অধ্যাপক সায়েবা আখতার। এছাড়া গবেষণায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জনে অবদান রাখায় রফিকুল ইসলামের আত্মার শান্তি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সাহিত্যিক, কবি, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংবাদিক, বিগত বছরে একুশে পদক বিজয়ী এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে