বিয়ে-সংসারের আশায় ভয়াবহ বিপদ জেনেও নৌকাতে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীরা। গত তিন বছরে যত ট্রলার ডুবি ও আটকের ঘটনা ঘটেছে তার বেশিরভাগ আরোহী ছিল রোহিঙ্গা তরুণী। মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গা তরুণরাই তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এসব অবৈধ অভিবাসন বন্ধে উদ্যোগ নেয়া কঠিন হচ্ছে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সেন্ট মার্টিন্সের কাছেই বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া থেকে উদ্ধার ১০৯ রোহিঙ্গার ৭৫ জনই নারী। যাদের মধ্যে ৩৬ জন অবিবাহিত। এসব তরুণীর সবার বিয়ে ঠিক হয়েছে ফোনে। পাত্র রোহিঙ্গা, থাকেন মালয়েশিয়ায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সুখী জীবনের স্বপ্ন আর প্রিয় মানুষের কাছে যাওয়ার আকুতি দমাতে পারেনি রোহিঙ্গা তরুণীদের। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টাকার যোগাড়, দালালের সাথে যোগাযোগসহ সব ব্যবস্থাই করছে মালয়েশিয়ায় থাকা তরুণেরা। এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমার মা-বাবা নাই। আমার সাথে যার যোগাযোগ সে তিন বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকে। সেই এখানে সাইফুলের মাধ্যমে সব ব্যবস্থা করেছে। আমি বারবার বললেও সে এখানে আসতে পারছে না। প্লেনে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় আমরা বোটে যাচ্ছিলাম।

আরো এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমার ভাইঝি যাচ্ছিলো। আমি বেশি কিছু জানতাম না। তিনদিন ধরে সে বাসায় ছিল না। খোঁজ নিয়ে জানলাম এখানে আছে। আরও শুনছি ওর অন্যদেশে বিয়ে ঠিক হয়েছে। এক পুরুষ রোহিঙ্গা বলেন, মালয়েশিয়া থেকে ফোনে বিয়ে ঠিক হয়। কারণ এখানকার কাউকে বিয়ে করলে কাবিনসহ অন্যান্য খরচ প্রায় দুই-তিন লাখ টাকা। আর বার্মার মেয়ে বিয়ে করতে খরচও অনেক কম। একজন বলেন, সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি। যেখানে ট্রলার দিয়ে গেলেই হয়। সেখানে যেতে কোনো পাসপোর্ট লাগে না। কিছু টাকা দিয়ে দালাল শ্রেণির সঙ্গে যোগাযোগ করে যাওয়া যায়। আরেকজন বলেন, মালয়েশিয়ায় একটি বিয়ের হাট বসে। তাদের বিয়ের দেয়ার কথা বলে রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করে সেখানে বিক্রি করে দেয়। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, রোহিঙ্গারা নিজের ইচ্ছায় এই পথে পা বাড়ায় বলে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন। আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় মূল হোতারা।

২০১৫ সালের পর সমুদ্রপথে মানবপাচার বন্ধ ছিল। তবে, ২০১৭ সালের আগস্টে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নামার পর ভিন্ন কৌশলে পাচার শুরু করে দালালরা। সুখের স্বপ্নে বিভোর রোহিঙ্গারা এইরকম ছোট ছোট নৌকায় বিপদসংকুল পথে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে চায়। আর তাদের এই সুখের স্বপ্নকে পুঁজি করে দালালরা। ভাসিয়ে দেয় এক মরণযাত্রায়। সেন্ট মার্টিন্সে গত মঙ্গলবার ভোরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১২ নারী ও ৩ শিশুসহ মোট ১৫ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৫ সালে তৈরি করা পুলিশের তালিকা অনুসারে, কক্সবাজারসহ সারাদেশে মানবপাচারকারীর সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে