ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম।দক্ষিণ সিটিতে মোট ১১৫০টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ১১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট।

এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আতদুর রহমান পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫২৫ ভোট, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. বাহারানে সুলতান বাহার পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৫ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতারাজ্জুমান ওরফে আয়াতুল্লাহ পেয়েছেন ২ হাজার ৪২১ ভোট।

আনুষ্ঠানিক ভোট শেষ হওয়ার প্রায় ৯ ঘন্টা পর দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকতা আব্দুল বাতেন এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে, কাউন্সিলর প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল রবিবার সকাল ১১টায় পাওয়া যাবে।এদিকে, উত্তর সিটিতে মোট ১৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রাপ্ত সকল কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোট। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট।

এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ ফজলে বারী মাসউদ পেয়েছেন ২৮ হাজার ২০০ ভোট, সিপিবি’র আহাম্মদ সাজেদুল হক পেয়েছেন ১৫ হাজার ১২২ ভোট, এনপিপি’র আনিসুর রহমান দেওয়ান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৩ ভোট ও পিডিপি’র শাহীন খান পেয়েছেন ২ হাজার ১১১ ভোট। মোট ভোট পড়েছে ২৫.৩০%।এর আগে, জয়ের আভাস পেয়ে শনিবার রাতে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে যান আতিকুল ইসলাম এবং শেখ ফজলে নূর তাপস। ঢাকার দুই সিটিতে মেয়রদের দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল দাবি করেন, নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো এবং নির্বাচন সুন্দর হয়েছে।সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঢাকাবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে, দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ফজলে নূর তাপস দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার কোনও সুযোগ নেই।

এদিকে, ইতিমধ্যেই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। শনিবার সন্ধ্যায়, বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, এদিন রাস্তায় গণপরিবহন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

এর আগে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলে। তবে, দুই সিটিতেই ভোটার উপস্থিতি ছিলো কম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন।

নির্বাচনে র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪ হাজারের মতো সদস্য মোতায়েন করা হয়। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য নিয়োজিত ছিলো। এই নির্বাচনে ১২৯ জন নির্বাহী হাকিম ও ৬৪ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ২২ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১৩ দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করছেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন মোট ৭৪ জন। দুই সিটিতে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক কন্ট্রোলরুম।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে