বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে  জমা দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এতে মোট ২৫ জনের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়, এর মধ্যে ১১ জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে আবরারকে শুধু শিবির সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে তা নয়,  আসামিরা এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মোট ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি ১৯ জনের বাইরে ঘটনার তথ্য-প্রমাণে আরও ছয়জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং এজাহার বহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতক রয়েছেন ৪ জন।গ্রেফতার ২১ জনের মধ্যে ৮ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দি, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ২৫ জনের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে ৩১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনবয়, মৃত ঘোষণাকারী চিকিৎসক, সিকিউরিটি গার্ড, ফাহাদকে হাসপাতালে যারা নিয়ে গেছেন তারা, হল প্রভোস্ট এবং হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্যতম।পলাতক চারজন হলেন- ট্রিপল-ই ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৭ ব্যাচের তানিম, মেকানিক্যাল ১৭ ব্যাচের মোর্শেদ ও কেমিক্যাল ১৬ ব্যাচের মুজতবা রাফিদ।তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে মারধরের সঙ্গে সরাসরি ১১ জন জড়িত ছিলেন। বাকিরা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘটনার পরিকল্পনা এবং নির্দেশনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আবরার ফাহাদকে সরাসরি মারধরে যে ১১ জন অংশ নেন তারা হচ্ছেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩ ব্যাচের মেহেদী হাসান রাসেল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ ব্যাচের মুহতাসিম ফুয়াদ, ১৫ ব্যাচের অনিক সরকার, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ ব্যাচের মেহেদী হাসান রবিন, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬ ব্যাচের ইফতি মোশারফ হোসেন সকাল, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ ব্যাচের মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ট্রিপল-ই বিভাগের ১৬ ব্যাচের মো. জিসান, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শামীম বিল্লাহ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের তানিম, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের শামসুল আরেফিন রাফাত ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুনতাসির আল জেমি। এই ১১ জনের মধ্যে জিসান ও তানিম পলাতক।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীএরপর রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক  ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

তথ্যঃ বৈশাখী
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে