কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের মরা গড়াই খাল। একসময় এই খালে নৌকা চলত। খালের পানি মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খালটি অস্তিত্ব হারায়। সম্প্রতি খালটি উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা। খননকাজও শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীর গতিতে এগুচ্ছে খননের কাজ। নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ এলাকাবাসীর। কুষ্টিয়া পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ রানভীর আহমেদ বলেন, গড়াই নদী থেকে শুরু হওয়া মরা গড়াই খালটি দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এ জন্য তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরন (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের উত্তর দিকে ঘেষে গড়াই নদী। পৌরসভার কমলাপুর এলাকায় গড়াই নদীর অংশ থেকে মরা গড়াই খালটি বের হয়েছে। সেটি শহরে কিছু অংশ এলাকার ভেতর দিয়ে আট কিলোমিটার দূরে কবরবাড়ি এলাকায় আরেকটি খালে মিশেছে। যার দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার। এই খাল কোথাও ৮০ ফুট আবার কোথাও ১০০ ফুট প্রশস্ত ছিল। একসময় নৌকা চলাচল করত এই খালে। কিন্তু ৯০ দশকের পর থেকে স্থানীয় লোকজন খালের দুই পাড় দখল করতে শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে আশপাশের মানুষ খালে ময়লা আবর্জনা ফেলতে থাকে। এমনকি খালের উৎস মুখ উচু হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ কমে যায়। ধীরে ধীরে আবর্জনা ও লতাপাতা ও গাছগাছালিতে ভরাট হতে থাকে খালটি। বছরের পর বছর এভাবে দখল আর দূষণে একসময় খালটির অস্তিত্ব হারিয়ে যায়।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে কয়েক জায়গায় খালের তেমন কোনো অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। দীর্ঘ খালের বিভিন্ন জায়গায় ডোবার মতো অংশে আবর্জনাযুক্ত পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কচুরিপানায় কিছু জায়গা ভরে আছে। মঙ্গলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ষাটার্ধ্ব আবদুল হামিদ বলেন, ‘একসময় এই খালে নৌকা চলত। স্থানীয় লোকজন নানা গৃহস্থালি কাজে এর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন সেই খাল দেখে বোঝা মুশকিল, এটা খাল না আবর্জনার ভাগাড়। তবে খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়ায় ভালো লাগছে।’

পৌরসভা সূত্র জানায়, নেশন টেক নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খননের কাজ পেয়েছে। জানুয়ারি মাসে খাল খনন শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই খনন শেষ করার কথা রয়েছে। গড়ে ৭০ ফিট প্রশস্তে ও ১৬ ফিট গভীরতায় খনন হবে। ২২ ফুট ঢালের দুই পাড়ে পায়ে হাটার রাস্তা হবে। এবং সেখানে ঘাস লাগানো হবে। খালের পানিতে হাঁস পালনের জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুইপাড়ে খাল খনন শুরুর আগে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে পৌরসভা থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মাইকিং করা হয়েছে। কমলাপুর ও মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে দুটি খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে খালের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। ছবি ধারণ করতে গেলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রথমে বাধা দেয়।
কমলাপুর এলাকায় শাহিদুল ইসলাম নামে একজন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে জানান, পৌরসভার অনুমতি ছাড়া কোন তথ্য বা ছবি নেওয়া যাবে না। কাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায় দুইপাড়ে বেশ কিছু বড় বড় ভবনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। খাল খনন করতে গিয়ে দখলদারদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।

তবে এলাকাবাসী বলছেন, খাল খননের মাটি খালের ভেতরেই ফেলা হচ্ছে। কোন কোন জায়গায় মাটি হালকা কেটে ঢাল তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খনন হয়তো সম্ভব হবে না। বর্ষার পানি চলে আসলে আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে মাটি খালের ওপরে ফেলায় মাটি আবারও পানিতে ধুয়ে খালে পড়ার সম্ভাবনাও আছে। সেক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে ঠিবাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাইমুর রহমান কোন মন্তব্য করতে চাননি। নাইমুর ও শাহিদুল কেউই ঠিকাদারের যোগাযোগ নম্বরর দিতে চাননি। ঠিকাদার ঢাকাতে থাকেন এবং পৌরসভায় গিয়ে তথ্য নিতে বলেন তারা।

পৌরসভাতে গিয়েও ঠিকাদারের যোগাযাগ নম্বর পাওয়া যায়নি। এজন্য কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, খালটি খনন শেষ হলে পৌরবাসী অনেক সুবিধা পাবে। বর্ষায় শহরের জলাবদ্ধতা কমে আসবে। বৃষ্টি হবার সাথে সাথেই পানি খাল দিয়ে গড়াই নদে চলে যাবে।

কে এম শাহীন রেজা
কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে