চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শাহাপুরে বড় ভইয়ের ধারালো দায়ের এলোপাতাড়ি কোপে ছোট ভাই সুজন (২৮) নিহত হয়েছে। গতকাল (২৬ মার্চ) মঙ্গলবার দিনগত রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো দা উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এর কিছু সময় পর ঘাতক বড় ভাই আব্দুল কাদের চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আত্মসমপর্ণ করে।

নিহত সুজন শাহাপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী ও শাহাপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, বছর খানেক আগে শাহাপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের তিন ছেলে আব্দুল কাদের আতিয়ার ও মনি জাল ভিসার মাধ্যমে একই এলাকার আজিবারের ছেলে রায়হান, ঝড়ু মন্ডলের ছেলে মোমিন, রহিম মাস্টারের ছেলে মুনাসির, আব্দুল কাশেমের ছেলে সেলিম ও তার নিজ ভাই সুজনকে জাল ভিসার মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠায়। বিদেশে পাঠানো বাবদ জাল ভিসা দিয়ে এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেয়।

ঘটনাচক্রে সুজন কয়েকদিন পরে দেশে ফিরলেও বাকিরা বিদেশের মাটিতে থেকে যায়। পরে এই বিষয় নিয়ে ছোট ভাই সুজন এর সাথে তার ভাইদের বিবাদ শুরু হয়। গতকাল রাতে সুজন ও তার স্ত্রী বাড়ির সামনে বসা ছিল। এসময় সুজন ভুট্টার একটি ডাল তার স্ত্রীকে ছুড়ে মারলে তার স্ত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চিৎকার করতে থাকে। এই নিয়ে তার বড় ভাই আব্দুল কাদেরের সাথে সুজনের তর্কবিতর্ক হয় এবং পূর্বের জের ধরে আব্দুল কাদের উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে ধারালো রামনা দিয়ে সুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।এসময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌছে রক্তাক্ত অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।নিহত সুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখে পুলিশ।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার আউলিয়া রহমান বলেন, সুজনের মাথায় ও ডানহাতে কোপের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে পৌছানোর পূর্বেই সে মারা যায়। এদিকে এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, চুয়াডাঙ্গা শাহাপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বড় ভাই আব্দুল কাদের। বড় ভাই আব্দুল কাদের জাল ভিসার মাধ্যমে সুজনকে বিদেশে পাঠানো এবং টাকা-পয়সার জের ধরেই এই হত্যাকা- চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পরই হত্যাকারী বড় ভাই আব্দুল কাদের চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আত্মসমর্পণ করেন এবং উদ্ধার করা হয় হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র টি। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা করা হয়নি বলে জানান তিনি।

সোহেল রানা
চুয়াডাঙ্গা নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে