অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি ৫৫টি মিশনের মিশন প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। একাদশ সংসদ গঠনের পর বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংটি ছিল এই সরকারের সঙ্গে কূটনীতিকদের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা। কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে সবাইকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ অন মার্চ টুওয়ার্ডস প্রসপারিটি, ইলেকশন মেনিফেস্টো ২০১৮ অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা দেওয়া হয়। সেখানে বর্তমান সরকারের খাতওয়ারি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিগত আমলে অর্জিত সব সাফল্যের উল্লেখ রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্ব নিয়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব দেবে সরকার। সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও শোনাবেন বিদেশিদের। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্স হলিডেসহ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে সব সুবিধা পাবেন, তাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা আজ সমৃদ্ধি অর্জনের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সম্ভাব্য সকল উপায়ে সবধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশে ভ্যাটিকানের কূটনৈতিক কোরের ডীন ও রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি বিফ্রিং থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা (পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে) বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য আমাদের সমর্থন, সহায়তা ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’
রাষ্ট্রদূত কোচেরি বলেন, ‘আমি বলবো পরস্পরকে জানার জন্য এটি ছিল একটি বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা। তিনি (মোমেন) তার পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম-সুনাম কিভাবে বাড়ানো যায়, সে সম্পর্কে কথা বলছিলেন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করছে। ব্রিফিংয়ে অন্যান্য বিষয় ছাড়াও এই ইস্যুটি উঠে আসে।

ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোরালো জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার মাধ্যমে ‘দুর্নীতি’ নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং যুব ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন, শান্তির সংস্কৃতি ও অটিজম সচেতনতা বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগে গৃহীত ইউএনজিএ প্রস্তাবনার উল্লেখ করে তিনি বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। এছাড়া, তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তার আগ্রহের বিষয়টিও ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক কোরের ডীন সকলের পক্ষ থেকে ফ্লোর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্বাচনে তাদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ

























