রাজনৈতিক পরিবার বা নেতাকে নিয়ে কোনো ডকু ড্রামা নির্মাণের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় খুব শোনা যায় না। এ ধরনের কাজ দক্ষিন এশিয়ায় প্রথম- এমনটাই দাবি করলেন গাউসুল আলম শাওন। যিনি প্রথম দিন থেকেই ‘হাসিনা-আ ডটার’স টেল’ নির্মাণের পরিকল্পনার যুক্ত ছিলেন এবং এখনো আছেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এর মধ্যেই ক্যামেরার সামনে এসেছেন তিনি, বলেছেন নিজের পরিবার ও জীবনের গল্প। এটা সত্যি আশ্চর্য হওয়ার মতই ঘটনা। শাওনও তাই জানালেন। ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম একটা সাক্ষাৎকারের মতো করব। সেই ভাবনা শেষমেশ এসে ঠেকলো ডকু ড্রামায়’ বললেন গাউসুল আলম শাওন। বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে কথা বলাটা প্রথম দিকে ভয়-সংকোচ-দ্বিধা কাজ করত। কিন্তু অল্পদিনেই সেগুলো কেটে গেছে। কারণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পরই তিনি সবার আপন হয়ে যান। তাই পরবর্তী কাজ করতে আমাদের আর কোনো অসুবিধা হয়নি।’

আর সময়? ‘হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী অসম্ভব ব্যস্ত। সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে কারণেই সব কাজ শেষ করতে আমাদের পাঁচ বছর লেগেছে। এমন অনেকবারই হয়েছে যে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আছি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাজের চাপে সেদিন কোনো কাজ হয়নি।’

সম্প্রতি একটি ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরিচালকসহ অন্যান্যকে ডাকছেন একটি দৃশ্যধারণ করার জন্য। এই দৃশ্য দেখার পর সবারই প্রধানমন্ত্রীকে যেন নতুন করে চিনেছেন। বিষয়টির সঙ্গে একমত প্রকাশ করলেন শাওন- হ্যাঁ, ‘এমন আরও অনেক দৃশ্য রয়েছে, এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যা দেখলে প্রধানমন্ত্রীকে মায়ের মতোই মনে হবে। আর সত্যি তিনি অনেক মানবিক এবং মমতাময়ী’ শাওন জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা। কাজটি করার সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল বলেই একদমই অন্যরকম কিছু দেখার সুযোগ পাচ্ছে দেশের মানুষ। সংসদ, সংবিধান, সিদ্ধান্ত দেয়ার বাইরের অন্য এক শেখ হাসিনাকে দেখল দেশের মানুষ, যোগ করেন শাওন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই রাজধানীর তিনটি হল এবং চট্টগ্রামের একটি হলে দর্শকদের ভিড়। ২৩ নভেম্বর থেকে আরও বড় পরিসরে প্রদর্শন শুরু হবে ‘হাসিনা-আ ডটার’স টেল’ ডকু ফিকশনের।

অনেক বাঁক-বদল, উত্থান-পতন, লড়াই-সংগ্রামের জীবন শেখ হাসিনার। যার জীবনের একেকটি অধ্যায় হতে পারে একেকটি সিনেমার প্লট। এত ঘটনাবহুল জীবন এত অল্প সময়ে ঠিক মতো উঠে এসেছে তো? স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড় নিঃশ্বাস ছাড়লেন শাওন। তারপর বললেন, ‘সত্যি বলেছেন। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্টসহ অনেক অনেক ঘটনা তার জীবনে। একেকটা ঘটনা এত বড় আর এত তার প্রভাব! কি বলব। আমরা সবকিছু নিয়েই কাজ করেছি। এবং প্রয়োজনীয় অংশটুকুই রাখা হয়েছে ডকু ড্রামায়।’

আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এবং অ্যাপেলবক্সের প্রযোজনায় ডকু ড্রামাটি নির্মাণ করেছেন পিপলু আর. খান। তাদের ইচ্ছা ছিল আরও আগেই কাজটি সবার সামনে আনার। কিন্তু শেষমেশ তা সবার সামনে এলো ১৬ নভেম্বর। নতুন বছরে ‘হাসিনা- আ ডটার’স টেল’ ডকু ড্রামাটি বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান গাউসুল আলম শাওন।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে