আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সাংবাদিকদের কার্ড অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিং এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ, সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন,‌ এই নীতিমালার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য যা যা করার দরকার গঠিত কমিটি সুপারিশ করা হবে। কমিটির সুপারিশের পর তথ্য মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ সর্বোচ্চ বডি সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করবে।তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০২২ সালের‌ অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা বেশ‌ কিছু ধারায় আপত্তিকর শব্দ ও‌ বিধান রয়েছে। সেগুলো‌ বাতিল‌ করার সুপারিশ করবে। এরমধ্যে ছিল সরকারের উন্নয়ন প্রচার করতে হবে। সেই শব্দ মুক্ত স্বাধীনতা সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এই শব্দ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবে।তিনি বলেন, সর্বশেষ নীতিমালা বলা ছিল সাংবাদিকদের বিদেশ গেলে সরকারের কিছু সংস্কাকে জানিয়ে যেতে হবে। এটা চরম অবমাননাকর। সেটা বাতিল করার সুপারিশ করা হবে।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সার্কুলার অনুযায়ী কার্ড দেওয়ার যে বিধান রয়েছে সেটি বাতিল করে পত্রিকায় সাংবাদিক অনুযায়ী ৩০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১৫ জন যেটি আগে হয় সেভাবেই কার্ড প্রদান করা হবে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় সুপারিশ করা হয়েছে একজন সাংবাদিক কমপক্ষে ২০ বছর সাংবাদিকতা যুক্ত থাকতে হবে অথবা সাংবাদিকতার অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা ফ্রিল্যান্সার কার্ড পাবে। আগে কার্ড ইস্যু করতো প্রধান তথ্য কর্মকর্তা।‌এবার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে যে কমিটি হবে তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে কোনো সাংবাদিক কার্ড না পেলে সে আপিল করতে পারবে। ‌সেজন্য আপীল করা ষর সুযোগ থাকবে। সেই আপিল বোর্ডে জাতীয় পর্যায়ে পত্রিকার সম্পাদক, বিচারপতি সহ বিভিন্ন সেক্টরের লোকজন থাকবে।

জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে জেলা থেকে তাদেরকে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে। আগের নীতিমালায় স্থায়ী ও‌ অস্থায়ী দুই ধরনের কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এবার একটি কার্ড দেওয়া হবে। সেটির মেয়াদ তিন‌ বছর মেয়াদ হবে।আগে ফৌজদারি মামলা হলেই প্রথম তথ্য কর্মকর্তা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করতে পারতো। এখন কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা হলেই তার কার্ড বাতিল হবে না যতক্ষণ না তার বিরুদ্ধে মামলার রায় না হবে। তবে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট হলে কমিটি তার কার্ড স্থগিত করবে।আবুল কালাম বলেন, ১৬৭ জনের সাংবাদিকের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র ৭ জনের কার্ড পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন‌ করেছেন।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে