
এস.এম. পারভেজ, ঝালকাঠি সংবাদদাতা।। ঝালকাঠিতে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মূখে হাসি ফুটে উঠেছে। সবুজ মাঠ ফুটন্ত সরিষা ফুলের হলুদের চাদরে ঢাকা পড়েছে। যে দিকে চোখ যায় সেদিকেই বাতাসে হলুদের দোল খাওয়া দৃশ্য মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি, মৌমাছি, ভ্রমর ও ছোট পাখির গুঞ্জনে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ সরিষা ক্ষেত দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে যাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের ভীড় বেড়েছে। সেই সাথে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তোলারও অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলায় গত বছর সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। তাই কম খরচে বেশি ফলনের আশায় এবছরও চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। উঁচু জমিতে আবাদকৃত আমনধান গোলায় তুলে পতিত জমিতে হেমন্তের শেষের দিকে সরিষার বীজ বুনন করেছিলেন। বাম্পার ফলনও হয়েছে। কৃষক -কৃষাণির মূখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। আর কিছু দিন পরই এই শষ্য ঘরে তুলতে পারবেন। তাদের এই আশার ফসল সরিষার গাছ এর সবুজের ডগায় ডগায় হলুদ রঙ এর ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে মনমাতানো সরষে ফুল মৃদু হাওয়ায় দুলছে। গাঢ় হলুদ বর্ণের এই ফুলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছি আর ছোট পাখির গুঞ্জনে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দুর থেকে মনে হয় প্রকৃতি প্রেমী কোনোজন সবুজ শ্যামলের মাঠে হলুদের চাদর বিছিয়ে রেখেছে। মাঠের পর মাঠ সরষে ক্ষেত প্রকৃতিতে অন্যমাত্রা এনে দিয়েছে। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখতে আর সরষে ফুলের ঘ্রাণ নিতে প্রকৃতি প্রেমী লোকজন সরিষা ক্ষেতে প্রতিনিয়ত ভীড় করার পাশাপাশি ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ’বিষয়ে সরিষা চাষী কাঞ্চন আলীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, গত বছর সরিষার ভাল ফলন হয়েছে। তাই এবারও সরিষার চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনায় ভাল বীজ ও সার\ পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তাগণ আমাদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে আমাদেরকে হাতে কলমে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। যেভাবে জমিতে সরষে ফল ফুটেছে আমরা আশাবাদী বাম্পার ফলন হবে। কেননা গত বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া অনূকূলে রয়েছে। তারা আরো বলেন, অনেক দূর থেকেও বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে সরিষা ক্ষেতে প্রতিনিয়ত আসছেন। এই সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি স্মৃতিকে ধরে রাখতে ছবি তুলে রাখছেন। এতে আমাদের ভাল লাগছে।
সরিষা ক্ষেতে আগত দর্শনার্থী সবুজ হাওলাদার ও তপন দাস বলেন, ছয় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ, সবসময়ই অপরূপ। ফুল-ফলের রূপসী বাংলা প্রকৃতির সাজে সাজার পাশাপাশি আমাদের নানা প্রয়োজন মেটায়। চলতি শীত মৌসুমে মাঠে মাঠে সবুজের ডগায় সরষে ফুলের সমারোহ আর মৌ মৌ ঘ্রাণ আর বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি, মৌমাছি, ভ্রমর এবং পাখির গুঞ্জনে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ এর সৃষ্টি হয়েছে। ফুলের সৌন্দর্য্য আর সুবাস নিতে সরষে ক্ষেতে এসেছি। এই সময়টুকু ফ্রেমবন্দী করে রাখতে ছবিও তুলেছি।
এ’ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সরষে একটি লাভজনক ফসল। গত বছর এই জেলায় ৮ শ ৫হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছিল। ফলন ভাল হওয়ায় এবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে। কিছু দিন এর মধ্যে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, এক হেক্টর জমিতে ৩ থেকে ৪ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। এক কেজি সরিষা থেকে ৩৫০ গ্রাম থেকে ৪শ গ্রাম তৈল পাওয়া যায়। সরকারি ভাবে কৃষকদের সার ও বীজ প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক মাঠে ময়দানে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।






























