শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর সংবাদদাতা।। আসছে দ্বাদশ জাতীশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতেই এবার মনোনয়ন চাইবেন আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব। গত কয়েক বছরে এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড, গণসংযোগ, পোস্টার-ফেস্টুনে তাদের সরব উপস্থিতি জানান দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে তারা এলাকায় নিজেদের অবস্থানও তৈরি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণায় নিজেদের ভূমিকাকে পজিটিভলি উপস্থাপনের মাধ্যমে তার হাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। সেকারণে তারা এবার মনোনয়ন চাইছেন দলীয় প্রধানের কাছে।

নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে মোস্তফা আশীষ ইসলাম। তিনি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য।
যশোর-৩( সদর)আসন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে রয়েছেন দুইজন। এরা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আরশাদ পারভেজ এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবীর বিপুল ফারাজি।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবক সভপতি মোস্তফা ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী,ও কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির নির্বাহী সদস্য বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান আলহাজ এস এম ইয়াকুব আলী এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আজিজুল ইসলাম ওরফে খন্দকার আজিজ। গত শনিবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে অন্যদের মতো যশোরের ছয়টি আসনের পাচটির নতুন প্রার্থীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা সকলেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

যশোরের ছয়টি আসনেই আওয়ামী লীগের অবস্থান খুবই শক্তপোক্ত। ছয়টিতেই রয়েছে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, তারা হলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনে আলহাজ শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-২ ((ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে মে.জে.(অব.) অধ্যাপক ডাক্তার নাসির উদ্দীন, যশোর-৩(সদর) আসনে কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) বাবু রণজিৎ কুমার রায়, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বাবু স্বপন ভট্টাচার্য এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে শাহীন চাকলাদার। এবার যশোরে ১৮ বছর বয়সী এবং ভোটারযোগ্য ও বাদ পড়া মিলিয়ে নির্বাচনে ভোট দেবেন ২৩ লাখ ৪০ হাজার ২২৮ জন। এর মধ্যে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ জন পুরুষ ও ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩১৪ নারী। নতুন ভোটার হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৪৪ জন।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচটি আসনে নতুন মুখদের মধ্যে যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোস্তফা আশীষ ইসলাম বলেন, স্মার্ট কার্ড বিতরণ সহজতর, নতুন ভোটার নিবন্ধনসহ ডিজিটাল সেবা নিয়ে ঝিকরগাছা ও চৌগাছার দুই লাখ ভোটারের দোরগোড়ায় সফলভাবে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিয়েছি। সাধারণ মানুষের সাথে আগে থেকেই একটা বন্ধন ছিল, এবার তা আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের যে ধারণা ও ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে তরুণ নেতৃত্বই অগ্রগামী হবে। মোস্তফা আশীষ ইসলাম বলেন, ২০১১-১২ সালে তথ্য প্রযুক্তি কর্মী হিসেবে ডিজিটাল যশোর গড়ায় অবদান রেখে স্বকৃীতি লাভ করেছি। ২০২১ সালের ৩০শে জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ লাভের পর নির্বাচনী মাঠ তৈরিতে দীর্ঘ ২৮ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। ইতোমধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার দুই লাখ ভোটারকে সশরীরে বিনামূল্যে ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে এসেছি। এছাড়াও বিগত দিনে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে আছি এবং থাকবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিবেচনায় আমাকে মনোনয়ন দিলে আমার চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলাকে আমি স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হয়।

যশোর সদর -৩ আসনে, জহিরুল ইসলাম চাকলাদর রেন্টু বলেন, করোনা কালীন সময় আমি পৌরসভার মেয়র ছিলাম। করোনা মোকাবেলায় জনগণের পাশে ছিলাম। যশোর পৌরসভা কে ব্যাপক হারে উন্নয়ন করেছি। যশোর সদর ৩ আসনে প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।আমি জনগণের সাথে আছি ছিলাম এবং থাকব জনগণও আমাকে চায়।অবশ্যই জনোনেত্রী সবকিছু মাথায় রেখে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। এটাই আমার বিশ্বাস।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আরশাদ পারভেজ বলেন, অভয়নগর ও বাঘারপাড়ায় আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে মিশেছি, তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনেছি। কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করেছি, সাধ্যমতো নিজ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছি। আমার স্ত্রী নারীদের মাঝে ব্যাপক কাজ করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য স্থির করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে আমাদের মতো তরুণরা ভালো কাজ করতে পারবে। আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন। এই আসনে আরেকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবীর বিপুল ফারাজি।

প্রচার প্রচারণা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লড়াইয়ে তাদের কেউই পিছিয়ে নেই। সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবীর বিপুল ফারাজি বলেন, আমাদের পরিবার বঙ্গবন্ধু আদর্শে রাজনীতি করা পরিবার। দীর্ঘদিন আমার পরিবারের অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তৃণমূলে নেতৃত্ব দিয়েছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষিত নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই, একারণে আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হলে আমার আসনে শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নে কাজ করবো।

এছাড়া যশোর -৫ (মণিরামপুর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমি রুট লেভেল থেকে রাজনীতি করে এসেছি। ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ সভাপতি ছিলাম । মনিরামপুর এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা ভবোদাহ সমস্যা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে ভবোদাহ অঞ্চলের জলাবদ্ধ মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান আলহাজ এস এম ইয়াকুব আলী। তিনিও বিগত সময় ধরে বিভিন্ন গণসংযোগ সভা সমাবেশের মাধ্যমে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন । তিনি বলেন, মণিরামপুরের আপামর মানুষ আমার বিষয়টি জানেন। কোভিডসহ নানা দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যারা মানুষের পাশে ছিল। যে সব এমপির বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ রয়েছে, এবার তাদের বিষয়টি তিনি দেখবেন। সেকারণে আমি আশা করছি, তিনি আমাকে এবার সুযোগ দেবেন। এর আগেও সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এবারও মনোনয়ন জমা দেবেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার নতুনদের দিকে সুদৃষ্টি দিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা বলেন তিনি।

যশোর-৬ (কেশবপুর ) আসনে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আজিজুল ইসলাম ওরফে খন্দকার আজিজ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পোস্টার ব্যানারে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, নেত্রী চাইলে এলাকায় আমি কাজ করে দেখাতে পারবো। খোঁজ নিয়ে দেখুন স্থানীয় এমপি শাহীন চাকলাদারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের মতো তরুণরাই এগিয়ে নিতে পারবে দেশকে। আমি আশাবাদী, কেননা জননেত্রী শেখ হাসিনা ইয়াং নেতৃত্ব চাইছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে