লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ধন্যপুর গ্রামের(আমির উদ্দিন মিয়াজি বাড়ী) গ্রামের রেহানা বেগম। স্বামী নুরুল হুদার মৃত্যুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ছোট ভাই(এ কে এম ইসরাফিল) সাথে এক হয়ে বড় ভাই(মৃত নুর নবী) এর সন্তানেরা মিলে বড় ভাই মৃত নুরুল হুদার সম্পত্তি দখল করে নেয়। পরবর্তিতে নুরুল হুদার সন্তানেরা সম্পত্তি বুঝে নেয়ার জন্য ভুমিপরিমাপক(আমিন) ডাকলে তারা বিভিন্ন ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয় এবং নানাভাবে হেনস্থা করতে থাকে।
মূল সম্পত্তির মালিক নূর মোহাম্মদ জীবিত থাকা অবস্থায় মৌখিকভাবে তিন ছেলেকে সমানভাবে বন্টন করে দেন কিন্তু নূর মোহাম্মদের মৃত্যুর পর আইনিভাবে জমিজমা বন্টন হয়নি। তাছাড়া, বড় ছেলে নুরুল হুদা ও তার স্ত্রী সন্তানেরা চাকরীর সুবাদে গ্রামে না থাকায় ধন্যপুর গ্রামের(আমির উদ্দিন মিয়াজি বাড়ী) সম্পত্তি দখল করে নেয় এবং অপর দুই ভাই নুরনবী ও এ কে এম ইসরাফিল। ফলে, মৃত নুরুল হুদার স্ত্রী রেহানা বেগম থানায় উপস্থিত হয়ে ওমর ফারুক মানিক ও কে এম ইসরাফিল গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ওমর ফারুক মানিক (মৃত নুরনবীর বড় ছেলে) ও এ কে এম ইসরাফিল গং। ওমর ফারুক মানিক ঢাকার হাজারীবাগের যুবদলের সক্রিয় সদস্য এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের নেতা। এছাড়া অন্যরা হলেন, মোহাম্মদ শহিদ(৩৮), ওয়াহেদ(৩৩), বাকের(২৮), সামছু(২৭)।
মৃত নুরুল হুদার স্ত্রী রেহানা বেগম বলেন, সকাল বেলা ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল গং আমাদের মালিকানাধীন জমির নারিকেল গাছ কাটা আরম্ভ করে। খবর পেয়ে আমি আমার ছেলে ও রাজু(ঘটনার ১ং সাক্ষী) বিকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইই এবং তাদেরকে গাছ কাটতে নিষেধ করি। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বাধা দিলে ওমর ফারুক মানিক আমাকে ঘাড় ধরিয়া ধাক্কা মারে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি এবং কোমরে জখম হই। তখন আমাকে উদ্ধার করার জন্য আমার ছেলে ও রাজু(ঘটনার ১ং সাক্ষী) এগিয়ে আসলে ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল দা-ছেনি ও লাঠি-সোটা নিয়া আমাদেরকে মারার জন্য আক্রমন করে এবং হুমকি দিয়ে বলে যে, এই বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করিলে কিংবা কোন প্রকার আইনের আশ্রয় নিলে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে এবং যুবদলের অন্যান্য নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে হামলার হুমকি দেয়। তখন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা এগিয়ে এলে এবং তাদেরকে নিষেধ করলেও ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল গংরা আমাদের মালিকানাধীন জমির ১০০টি সুপারি গাছ’সহ আরো অন্যান্য ফলের গাছ কেটে নেয় যায়, যার আনুমানিক মুল্য ২,২০,০০০/=(দুই লক্ষ বিশ হাজার) টাকা। তখন আমার ছেলে ও রাজু(ঘটনার ১ং সাক্ষী) ৯৯৯ এ সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আমাকে ও আমার ছেলে রাজু(ঘটনার ১ং সাক্ষী)কে ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল গংদের কবল থেকে উদ্ধার করে।
রেহানা বেগম আরও বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে থানা অভিযোগ করেছি। আমার স্বামীর সম্পত্তির ভাগ আমার ছেলে-মেয়েরা পাবে কিন্তু ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল গংদের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জোর জুলুম করে অন্যায়ভাবে আমাদের সম্পত্তির ভাগ থেকে আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে বঞ্ছিত করে। তাই, অত্যাচারী, অন্যের সম্পত্তি লুন্ঠনকারী, আইন শৃঙ্খলা অমান্যকারী ও উশৃঙ্খলা প্রকৃতির লোকদের বিরুদ্ধে বিচার চাই। প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বে স্থানীয় সালিশদার এবং জরিপকারকের দ্বারা ছিঠার মাধ্যমে আমার স্বামীর ওয়ারিশি সম্পত্তি পরিমাপ করা হয়। বিবাদীগন আমার স্বামীর একই খতিয়ানের অংশীদার। আমার ছেলেদের ব্যবসার সুবাদে আমরা সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করি। আমার স্বামীর মৃত্যু পর ইহতে এবং আমার ঢাকায় থাকার সুবাদে বিবাদীগণ তাহাদের নিজ নিজ অংশে ভোগ-দখল থাকিয়া জোর পূর্বক আমাদের সম্পত্তিও জবর-দখলের পায়তারা করে আসছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে খুন-জখম’সহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার সিধান্ত নেই। বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অভিহিত করে থানায় হাজির হয়ে ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ধন্যপুর গ্রামের(আমির উদ্দিন মিয়াজি বাড়ী)র জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে পাশের বাড়ির ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল গংদের সঙ্গে মৃত নুরুল হুদার পরিবারের জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তাদের এই দ্বন্দ্ব নাকি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বুধবার সকালে তাদের মালিনাধীন জমির প্রায় ১০০টি সুপারি গাছ কেটে নেয় তারা, খবর পেয়ে ঢাকা থেকে নুরুল হুদার পরিবারের সদস্যরা বিকেল ৪টার দিকে বাড়িতে আসে, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তার স্ত্রী ও সন্তানদের উপর গায়ে হাত তোলে।
অভিযুক্ত ওমর ফারুক মানিক ও এ কে এম ইসরাফিল বলেন, জমিটি ৪০’বছর আগে আমার দাদা আমাদেরকে দিয়ে গেছেন। জমির কাগজপত্রের বন্টন না হলেও মুখে মুখে বন্টন হয়েছে। এই ৫০’বছর ধরে জমিটি আমরা ভোগদখল করে আসছি। গতকাল হঠাৎ করে তারা জমিতে আমাদের কাজে বাধা দিতে আসে। এসময় তাদের সঙ্গে আমাদের কিছু কথাকাটাকাটি হয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার কর্মকর্তা তহিদ জানান, জমিজমা নিয়ে অনেক বাকবিতণ্ডা হয়েছে, কিন্তু কোনো রকম মারামারি বা বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























