নোয়াখালী প্রতিনিধি:
বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের দ্বিতীয় দিনে মোড়ে মোড়ে ঝটিকা মিছিল করেছে নোয়াখালী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১’নভেম্বর) সকালে শহরের শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের সামনের সড়ক থেকে শুরু হয়ে একটি মিছিল কয়েকশ গজ অতিক্রম করেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। একই সময় শহরের রশিদ কলোনির সামনের সড়ক থেকে শুরু হয়ে আরেকটি মিছিল কয়েকশ গজ অতিক্রম করে। মিছিল দুইটির নেতৃত্ব দেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমান। এ সময় তারা অবরোধের পক্ষে এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে ওই এলাকায় টহল জোরদার করে।

বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অবরোধকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করলেও প্রধান সড়কসহ বেশিরভাগ সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভোর থেকে সড়কে যান চলাচল কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ছেড়ে যায়নি কোনো দূর পাল্লার বাস।

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের দ্বিতীয় দিনে নোয়াখালীতে রেললাইনে আগুন দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে জেলা শহরের মাইজদী রেল স্টেশনের উত্তর পাশে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষোভে সফল হোক, সফল হোক, সড়ক পথের অবরোধ, সফল হোক রেলপথের অবরোধ, সফল হোক সফল হোক, নৌপথের অবরোধ, সফল হোক সফল হোক, এক দফা এক দাবি, এক শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখুসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আজগর উদ্দিন দুখু বলেন, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে আমাদের এক দফা দাবি থেকে সরানো যাবে না। সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই সরকারের পদত্যাগ করেই ছাড়ব। গত দিনের মতো আজকেও গাড়ির চাকা ঘুরবে না এবং দোকানপাট খুলবে না। আমাদের রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ সফল হবে। এবিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, আমাদের কাছে রেললাইনে অগ্নিসংযোগের কোনো তথ্য জানা নেই। কেউ আমাদেরকে বলেনি। তবে শুনেছি স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিভেছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কাজ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অবরোধের নামে নাশকতা ঠেকাতে মাঠে সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের পুলিশের বিভিন্ন টিম জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। টহলে রয়েছে বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা। সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, পুলিশ যাওয়ার পর পিকেটাররা পালিয়ে যায়। তবে এঘটনায় তাৎক্ষনিক একজনকে আটক করা হয়েছে। যেহেতু রেলওয়ের জায়গা তাই তারা বাদী হয়ে মামলা করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে