আবারও তিন সপ্তাহের ব্যবধানে অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মূল সড়কের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নগরীর অলিগলিতেও। পানিবন্দি সড়কে নেমে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন সপ্তাহ আগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরীতে। এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। শনিবার(২৬ আগস্ট) রাতভর চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি হয় যা ভোরেও অব্যাহত ছিল। সকালে কিছুসময় বৃষ্টি থামলেও ১১টার দিকে আবারও শুরু হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আট ঘণ্টায় ৭৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সহকারি আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ূ সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত আরও দুই-তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ের মধ্যে পাহাড়ধসের আশঙ্কা আছে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে রাতভর বৃষ্টিতে নগরীর চান্দগাঁও, চকবাজার, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মুরাদপুর, ফুলতলা, বাড়ইপাড়া, তিনপোলের মাথা, কাপাসগোলা, হালিশহর, সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ আরও বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় সড়কে এবং অলিগলি কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানিবন্দি পরিস্থিতিতে রোববার (২৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা চট্টগ্রাম নগরীর ২৭ কেন্দ্র ও হাটহাজারী উপজেলার দুই কেন্দ্রে একঘণ্টা পিছিয়ে শুরু করতে হয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী বোনকে নিয়ে আসা সানি মোহাম্মদ বলেন, চকবাজার হাঁটুর ওপর পানি ছিল। আমরা বহদ্দারহাটের বাসা থেকে সিএনজিতে এসেছি। কিন্তু পানির কারণে গাড়ি আটকে যায়। এরপর পানিতে হেঁটে আমাদের কেন্দ্রে আসতে হয়েছে। খুবই কষ্ট হয়েছে। এভাবে পরীক্ষা দেয়া যায় না আসলে।

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর কালুরঘাটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর ‘নলেজ পার্কের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের একটি কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তবে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ। আগস্টের প্রথম সপ্তাহেও চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। ড্রেনের পানি সড়কে উঠে আসায় এবং নিচু এলাকার বাসাবাড়ি-দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়ায় লোকজনকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবুল হাশেম জানান, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিতে যে পরিস্থিতি ছিল, এবারও একই পরিস্থিতি হয়েছে। নিচ এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, ড্রেনে, নালায় যেখানে পানি আটকে আছে সেখানে যাতে দ্রুত নিষ্কাশন হয়। তবে রাতভর ভারি বৃষ্টি হয়েছে। ভোরে জোয়ার ছিল। এজন্য পানি বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে গেছে। আবার বিভিন্ন খালে মাটি এখনও আছে। পানি দ্রুত যেতে পারছে না। এদিকে টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের নন্দীরহাট ও বড়দিঘীর পাড় এলাকায় সড়ক ডুবে গেছে। মহাসড়কের নন্দীরহাট অংশের এশিয়ান পেপার মিলের সামনে থেকে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে পর্যন্ত সড়ক পানিবন্দি হয়ে আছে। সেখানে যানবাহন আটকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে