‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’
ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান। পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ভোর থেকেই আরাফাত ময়দানে হাজির হন বিশ্বের ২৫’লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। অবস্থান করবেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত। খুতবা পাঠ করবেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য শায়খ ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক… সুউচ্চকণ্ঠে সৃষ্টিকর্তার একত্ব ও মহত্ত্বের কথা ধ্বনিত হচ্ছে প্রতিক্ষণে। ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দান- ভরে উঠেছে পুণ্যময় শুভ্রতায়। একইসঙ্গে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা। সাদা কাপড়ে চার বর্গমাইলের ওই মাঠে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের ১৬০ দেশের ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

হাজিরা আজ আরাফার ময়দানে জোহর ও আসর নামাজ একসাথে পড়বেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই মুজদালিফার উদ্দেশে গমন করবেন। সেখানে একসাথে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত্রিযাপন করবেন। মুজদালিফা থেকে তিন জামারার জন্য তারা পাথর সংগ্রহ করবেন।

পরদিন মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর কোরবানি করে মাথার চুল ছোট বা মুণ্ডন করবেন। তখন ইহরামের কাপড় বদলে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সায়ি (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনা থেকে তারা তিন দিন (বড়, মধ্যম, ছোট) ২১টি করে ৬৩টিসহ মোট ৭০টি পাথর জামারায় নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির বাসনায় অশ্রুসিক্ত নয়নে সৃষ্টিকর্তার দরবারে ফরিয়াদ জানাচ্ছেন তারা। ভোরে ফজর নামাজ শেষ করেই মিনা থেকে আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন মুসুল্লীরা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বা বাসে করে পৌঁছান গন্তব্যে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই পবিত্র ভূমিতেই ইবাদতে ব্যস্ত থাকবেন।

স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা পাঠ করবেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য শায়খ ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ। বাংলাসহ ২০টি ভাষায় সরাসরি সম্প্রচার হবে খুতবা। সেখানে থাকবে মুসল্লিম বিশ্বের জন্য দিকনির্দেশনা।

সূর্যাস্তের সময় মুজদালিফায় রওয়ানা হবেন মুসুল্লীরা। রাতে সেখানেই অবস্থান করবেন। পরদিন ভোরে মিনায় জামরাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজ। এবার হজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- গরম। ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুড়ছে সৌদি। এ অবস্থায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা দিতে ৩২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রেখেছে সৌদি সরকার।

মসজিদ হারামাইন শরীফাইন (Haramain Sharifain) ফেসবুক পেজে ও সৌদির টিভি চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে হজের যাবতীয় কার্যক্রম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে