
জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনটি ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। এ’ইমিগ্রেশন ভবনটি আরও এক দশক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে এখনও ঝুকিপূর্ণভাবে জরাজীর্ন এ ভবনেই চলছে দুই দেশের যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কাজ। এখানে যাত্রীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত জায়গা, নেই সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার। ফলে যাত্রীগনকে নানাবিধ অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। পোহাতে হয় দুর্ভোগ।
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১৯৯৪ সালে আন্ত:দেশীয় বাণিজ্য শুরু হয়। বর্তমানে উক্ত স্থলবন্দরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে স্থলপথে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এ স্থলবন্দর থেকে প্রতি মাসে যাত্রীদের ভ্রমণ কর বাবদ প্রায় ১ কোটি টাকা রাজস্ব আসছে। তবে সম্ভাবনাময় এ বন্দরে যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সামনে আসন্ন ঈদুল ফিতরের সময় যাত্রীদের পারাপারের চাপে বাড়ার সাথে সাথে এ দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বর্ষায় বৃষ্টি নামার সাথে সাথে ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে হাঁটু পানি জমে যায়। এছাড়া ইমিগ্রেশন ভবনে পর্যাপ্ত পাখা না থাকায় গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেন অনেক যাত্রী। অসুস্থ বা বয়োবৃদ্ব বা রোগীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের কথা বলার অবকাশ থাকেনা। তাছাড়া এসব অসুবিধার পাশাপাশি রয়েছে বন্দরে যাত্রীদের জন্য অপর্যাপ্ত ট্রলি সুবিধা।
অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী ভারতের আগরতলায় এক ছাদের নিচেই যাত্রীদের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং সুবধিা থাকলেও বাংলাদেশের আখাউড়া স্থলবন্দরের চিত্র ভিন্ন। প্রথমে ব্যাংকের বুথে ট্র্যাভেল টেক্স পরিশোধ করে জরাজীর্ণ কাস্টমস ভবনের ছোট্ট একটি কক্ষে কাস্টমস কাজ শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের জন্য যেতে হয় বিজিবি চৌকিতে। এরপর সেখান থেকে আবার যেতে হয় পরিত্যক্ত ইমিগ্রেশন ভবনে। বন্দরের এমন অব্যবস্থাপনার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।
যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে তাদের এহেন দুর্ভোগ দূর করতে ২০১৬ সালে পুরাতন ইমিগ্রেশন ভবনের পাশে নতুন ছয় তলা বিশিষ্ট আধুনিক ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে সীমান্তের দেড়শ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না জানিয়ে কাজে বাধা দেয় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। দুইদেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর নকশা পরিবর্তন এবং সর্বোচ্চ ৩৫ ফুট উচ্চতা বা দুইতলা ভবন নির্মাণের শর্তে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। একতলার কাজ শেষ হলেও বিএসএফের কয়েক দফার বাধায় ২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। বন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী সিলেটের বাসিন্দা স্বর্ণলতা রায় বলেন, আখাউড়া বন্দরের অবকাঠামোর অনেক কিছুর দুর্বলতা আছে। অবকাঠামো গুলো আরও উন্নত করা উচিত। কারণ আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের ইমিগ্রেশনের সুযোগ সুবিধা অনেক ভালো। আমরা চাই ভারতের নাগরিকরা ও যেন আমাদের দেশে এসে আমাদের ইমিগ্রেশনের অবকাঠামো ও সেবা অনেক ভালো বলেন। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে আমাদের দুর্বল অবকাঠামোর জায়গাগুলোতে আরও কাজ করতে হবে বলে মনে করি। সকলে মিলে উদ্যোগ গ্রহন কররে এ সমস্যা সহজেই দূর করা যাবে।
ঢাকার বাসিন্দা মো. রাজু বলেন, এপার এবং ওপারের ইমিগ্রেশনে অনেক তফাৎ। এখানে অবকাঠামো, প্রফেশনালিজম, চেকিং ব্যবস্থা গুলোকে আরও উন্নত করতে হবে। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি লোক এ চেক পোষ্ট দিয়ে যাতায়াত করে। এই সংখ্যাটা বাড়তে থাকলে এ বন্দরটি লাভজনক বন্দর হতে পারে। যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে এখানে বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও নেই। ওয়াশ রুম নাই। বৃষ্টি হলে দাঁড়ানোর মত পর্যন্ত জায়গা নাই। এসব নানাবিধ সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা সমাধান করতে হবে এবং এসব সমস্যা দূর করতে হবে। এ’ব্যাপারে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের পুলিশ ইনচার্জ স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলমান আছে। দুই দেশের মধ্যে কথা চলছে। আশা করি শিগগিরই চলমান এসব সমস্যার সমাধান হবে। যাত্রীদের সুপেয় পানির জন্য ফিল্টারের ব্যবস্ঁথা রয়েছে। আমরা আন্তরিকার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমদের যে জনবল আছে তা দিয়ে যাত্রী সেবার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং অব্যাহত ভাবে চেষ্টা করে যাব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ





























