জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। নাম জসিম মিয়া, বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের দুবলা গ্রামে। জসিম মিয়া হাতে তৈরী বিশেষ প্রক্রিয়ার ঘানি ভাঙ্গানোর একটি মেশিন স্থাপন করেছেন তার বাড়ির একটি খোলা জায়গায়।
বিশেষভাবে স্থাপিত এই ঘানি ভাঙ্গার মেশিনটি ঘুরানো হয় একটি ঘোড়ার সাহায্যে। ঘানি মেশিনটি ঘুরার সঙ্গে তাল রেখে তা থেকে বেরিয়ে আসে ফোঁটা ফোঁটা তৈল আর চুইয়ে চুইয়ে সে তৈল পড়ে নীচে রাখা পাত্রে। এভাবে সারাদিন ঘানি টেনে ৫-৬ লিটার তেল তৈরি করা যায়। প্রতিদিন ঘানির মাধ্যমে বের হয়ে আসা তেল ও খৈল বাজারে বিক্রি করেন জসিম মিয়া। আর সেই তৈল ও থৈল বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে জসিম মিয়ার পরিবারের পাঁচ সদস্যের সংসার। আখাউড়া-সুলতানপুর সড়কের দুবলা এলাকায় গেলে এ দৃশ্যই চোখে পড়বে।
এলাকাবাসীসুত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশেষভাবে স্থাপিত কাঠের তৈরি গামলা জাতীয় পাত্রে প্রথমে সরিষা রাখা হয়,এরপর জোয়ালের একপাশে বড় পাথর আর অন্যপাশে ঘোড়ার গলায় বেঁধে চক্রাকারে ঘুরানো হয় ঘানি ভাঙ্গানোর মেশিনটিকে। ক্রমাগত ঘূর্ণনের ফলে শরিষা থেকে গামলা জাতীয় পাত্রে সরিষা পিষে তা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় তেল বের হয়। ঘানি টানার বা ঘুর্ননের কাজে কখনো কখনো ঘোড়ার সঙ্গে জসিম মিয়া নিজেও ঘুরেন। আবার অনেক সময় চোখ বাঁধা অবস্থায় ঘোড়া একাই ঘুরতে থাকে। চোখ বাঁধার কারণ সম্পর্কে জসিম মিয়া বলেন,ঘানি মেশিনটি সব সময় বৃত্তাকারে গোলাকার ভাবে ঘুরানো লাগে তৈল বের হওয়ার জন্যে এবং ঘানি দ্বারা তৈল বের করতে তা অনবরত ঘুরতে থাকে। এ কাজে ঘোড়ার চোখ বাঁধা না থাকলে অনেক সময় ঘোড়া দাড়িয়ে যায বা থমকে দাঁড়ায়। চোখ বাঁধা থাকলে কেউ তার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটছে বা সোজা-সোজি হাঁটছে মনে করে ঘোড়া ঘুরতে থাকে।
ঘানি টানার কাজ অত্যন্ত পরিশ্রমের উল্লেখ করে জসিম মিয়া আরো বলেন ঘোড়াকে ঘাস, ভুসি, কুঁড়া ইত্যাদি খেতে দিতে হয়। জসিম মিযা গত চার মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা থেকে ৩২ হাজার টাকায় ঘোড়াটি ক্রয় করে এনেছেন ঘানি ভাঙ্গা কাজের জন্য এবং একই এলাকা থেকে সে গত দেড় মাস আগে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ঘানিভাঙ্গার মেশিনটি ক্রয় করেন। উক্ত ঘানিভাঙ্গার মেশিনটি দিয়ে ১ মন সরিষা ভাঙ্গলে তা থেকে ১৩/১৪ কেজি তেল পাওয়া যায় এবং ২৫/২৬ কেজি খৈল পাওয়া যায়। ঘানি থেকে বেন হওয়া প্রতি কেজি সরিষার তেল বাজাের বিক্রি করেন ৪০০ টাকা আর খৈল বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৭০’টাকা করে।বাজার খেকে জসিম মিয়া প্রতি ১ মণ সরিষা ক্রয় করেন ৩ হাজার টাকায়।
জসিম মিয়া তার পরিবারের ৫’সদস্যের মুখে অন্ন তুলে দিতে নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছেন। সেই সাথে স্বপ্ন দেখছেন তার সংসারের স্বচছলতার। তার বুক ভরা আশাও সেটি। মহা সড়কের পাশে খোলা জায়গায় ঘানিতে তেল ভাঙার কারনে এলাকাবাসী ও পথচারীরা কৌতুহলী হয়ে দাড়িযে থেকে ঘানি ভাঙ্গানোর এ দৃশ্য দেখেন ও উপভোগ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ





























