নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধান দুই দলের অনড় অবস্থান দেশের জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। বড় কোনো দল অংশ না নিলে নির্বাচনের ফলাফলে ঝুঁকি থাকে বলেও মনে করেন সিইসি। বৃহস্পতিবার (২৩’শে ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের আমন্ত্রণে বিদেশি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পর এসব কথা বলেন তিনি।

ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে যায় ৪ সদস্যের বিদেশি প্রতিনিধি দল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের সাথে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা। বৈঠকের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় কমিশন। আশা করি কয়েক মাসের মধ্যেই বড়দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হবে।

আগামী নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করাটা চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই দলের অনড় অবস্থান শুভ ইঙ্গিত নয়। বড় কোনো দল অংশ না নিলে নির্বাচনের ফলাফল ঝুঁকিমুক্ত হয় না। নির্বাচনে গণমাধ্যম এবং পর্যবেক্ষকরা সঠিক ভূমিকা রাখলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

বৈঠকের পর গণমাধ্যমের সাথে কথা বলে প্রতিনিধি দল। এসময় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানান নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালা নাথ খানাল। নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালা নাথ খানাল বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল দুটিই উন্নয়নশীল দেশ। দুই দেশেরই কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, আবার সুযোগও আছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে অনেক কাজ করতে হবে। সব দলকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আশা করি।

বিরোধীদলকে নির্বাচনে আনতে সরকারি দলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানাল, মালয়েশিয়া থেকে ইউনাইটেড ন্যাশন ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মেরিয়েট্টা এরগুইডো রেফরমাডো, জার্মান থেকে জিবিপি ইন্টারন্যাশনাল এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভলকার ইউ. ফ্রেডরিচ ,ভুটান থেকে গ্লোবাল ভিলেজ কানেকশনের চেয়ারম্যান জেকশন দুকপা, ভারত থেকে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের বিশেষ প্রতিনিধি মিসেস স্বপ্না সাহা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে