
ফাইল ছবি
শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর জেলা।। পদযাত্রার নামে নাশকতামূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে যশোরে বিএনপি’র ৯২’নেতাকর্মীর নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে দায়ের করা এ মামলায় ১৩ জনকে ৯টি বোমা ও বোমা তৈরি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আটককৃতদের রোববার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলা দু’টি করেছেন যশোর সদর উপজেলার তালবাড়ীয় পুলিশ ক্যাম্পের এসআই একরামুল হুদা এবং চাঁনপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আমিনুল ইসলাম। এ’দুই মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার মধূগ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে রুহিন হোসেন, ঘুরুলিয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে কুদ্দুস হোসেন, বানিয়ারগাতী গ্রামের নূর মোহাম্মদ মোল্যার ছেলে শফিয়ার রহমান, শেখহাটি গ্রামের মৃত ইছাহক আলী মেম্বরের ছেলে বদিউজ্জামান, তরফ নওয়াপাড়ার মৃত আলী বক্সের ছেলে আকরাম হোসেন, ঘুরুলিয়া কারিকরপাড়ার কেরামত আলীর ছেলে শামীম, মন্ডলগাতী মধ্যপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে আবির হাসান শুভ, মন্ডলগাতী ঢাকাইলাপাড়ার শানু শেখের ছেলে ফিরোজ শেখ, বাশবাড়ীয়া গ্রামের মান্দার গাজীর ছেলে আবু বক্কার সিদ্দিক, মাহিদিয়া গ্রামের মৃত শামছুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে এবিএম আসাদুজ্জামান, সাড়াপোল গ্রামের মৃত আব্দুল সরদারের ছেলে আবু হাসান কুদ্দুস, চাঁচড়া রায়পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে আল মাসুদ রানা ও রুপদিয়া গ্রামের মৃত আবু জাফর খানের ছেলে পলাশ খান।
এসআই একরামুল হুদা মামলায় উল্লেখ করেন, শনিবার বিকেল পৌনে ৩টায় ইউনিয়ন পথযাত্রার নামে কিসমত নওয়াপাড়া মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে লাঠি, লোহার রড, ইট পাটকেল ও ককটেল বোমা নিয়ে অবস্থান নেয়। তারা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ প্রতিরোধে ধাওয়া দিলে দিকবিদিক ছুটোছুটি করে পালানোর চেষ্টাকালে ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ৮০/৯০জন পালিয়ে যায়। পরে গ্রেফতারকৃতরদের দখল হতে চারটি ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমা, ২টি বাঁশের লাঠি, ১টি লোহার রড ও ২টি ইটের টুকরো উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে, চাঁনপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আমিনুল ইসলাম মামলায় উল্লেখ করেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় যশোর-নড়াইল সড়কের বাউলিয়া বাজারে দেশীয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা নাশকতার চেষ্টাকালে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় ধাওয়া দিলে তারা পালাবার চেষ্টা করে। এসময় ৭জনকে গ্রেফতার করলেও বাকীরা পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের দখল হতে ৫টি ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমা, ৩টি কাঠের বাটাম, ২টি লোহার রড ও ৪ টুকরো ইটের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আজ রোববার বিকেলে যশোর সদর আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামিরা হল,ঐক্য জোটের সক্রিয় সদস্য মধু গ্রামের রুহিন হোসেন, ঘুরুলিয়ার কুদ্দুস হোসেন, বানিয়ারগাতীর শফিয়ার রহমান, শেখহাটির বদিউজ্জামান, তরফ নওয়াপাড়ার আকরাম হোসেন, বি ব্লক (উপশহর) মিজানুর রহমান, কিসমত নওয়াপাড়ার আনোয়ার হোসেন লাল্টু, একই গ্রামের রাজু আহম্মেদ, শেখহাটির আসাদুল ইসলাম ঝন্টু,একই গ্রামের কামরুল হাসান শিমুল, তালবাড়িয়ার কবির হোসেন,একই গ্রামের বাহারুল ইসলাম,পাঁচবাড়ীয়ার মশিয়ার রহমান বাবলু, তালবাড়ীয়া চিনেডাঙ্গা গ্রামের শামীম, ঘুরুলিয়ার আক্কাস, আড়পাড়ার আমিনুর রহমান মধু, বড় গোপালপুরের মিজানুর রহমান, শেখহাটি গ্রামের আলাউদ্দিন, শেখহাটি মিয়া বাড়ির আলতাফ হোসেন,মধু গ্রামের মাহাবুবুর রহমান, আড়পাড়ার রাশেদুজ্জামান, একই গ্রামের দুলাল, ফারুক, ছোট বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের তোফাজ্জেল, ঘুরুলিয়া পশ্চিমপাড়ার আশরাফুল ইসলাম, শেখহাটি বিশ্বাস পাড়ার বেনজির, শেখহাটির আশরাফুল ইসলাম সেলিম, শেখহাটি দক্ষিণপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক, শেখহাটির আরাফাত,শেখহাটি মোল্যা পাড়ার ইকবাল, বাহাদুর পুরের রুহুল, বড় গোপালপুর গ্রামের কামরুল, একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম, আলমনগরের আশরাফুজ্জামান মিঠু, আড়পাড়ার ইকলাস,ঘুরুলিয়া কারিকর পাড়ার শামীম,শহরের ষষ্টিতলাপাড়া (মুজিব সড়ক রেলগেট) এলাকার আব্দুর রাজ্জাক সরদার, হুশতলার আব্দুর রউফ, নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়া (বিআরটি অফিসের পাশে) শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদ লিটন, শেখহাটির এসএম মোস্তাফিজুর রহমান কবির, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের বর্তমানে পাওয়ার হাউজ পাড়ার আব্দুল হামিদ, একই এলাকার বর্তমানে যশোর শহরের পুরাতন কসবা পাওয়ার হাউজ পাড়ার নুর আলম, শংকরপুর ইসাহাক সড়ক মাধ্যমিক স্কুলের পাশে আশরাফুল ইসলাম আশরাফ ও আরিফ, পাঁচবাড়ীয়া (ইছালী) বর্তমানে মনোহরপুর বাজার এলাকার বজলুর রশিদ,কিসমত নওয়াপাড়ার সিরাজ, সমশপুর গ্রামের শান্টু,রুহুল কুদ্দুস, শাহাবুদ্দিন ও মুকুলসহ অজ্ঞাতনামা আরো অনেকে।
যশোর নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























