মাসুদ রানা,মেহেরপুর প্রতিনিধি।।
কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবে মেহেরপুরের সবজি উৎপাদনে সুনাম রয়েছে। দেশের চাহিদার ১৫’শতাংশ মেটায় এই জেলার সবজি। একসময় সবজি চাষিরা ভরা মৌসুমে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হতেন। কখনও কখনও চাষের খরচও তুলতে পারতেন না। কষ্টের সবজি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করতে হতো। এখন মেহেরপুরের বাধাকপি রফতানি হচ্ছে বিদেশে।এবছরেপ্রতিটি বাধাকপি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কিনছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রতিটি কপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়।

জেলার উৎপাদিত সবজির মধ্যে বাধাকপি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরে রফতানি হচ্ছে। লাভবান হওয়াতে জেলার প্রতিটি গ্রামে সবজি চাষ হয়। ভরা মৌসুমে এসব সবজির দাম কমে যেতো। এখন সেই সবজি দেশের বাইরে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছে। কৃষকরা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বাধাকপি সরবরাহ করছেন বেশি দামে।

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে কীটনাশক মুক্ত বাধাকপি রফতানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সম্ভাবনাময় খাত তৈরি হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় বিদেশে রফতানিযোগ্য বাধাকপি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কৃষি বিভাগ চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করায় বাধাকপির উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগতমান বজায় রাখার পাশাপাশি খরচও কমছে। মাঠ থেকেই বাধাকপি কিনে নিচ্ছে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। আগামী বছরে আরও বেশি কৃষককে এ সুবিধার আওতায় আনতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে কৃষকরা। মেহেরপুরের সাহারবাটি, রাজনগর, যুগিন্দা, বন্দর, মোনাখালী, বন্দর, সোনাপুর, কাথুলিসহ বিভিন্ন গ্রামে এই কপির আবাদ হচ্ছে। সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলাতে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বাধাকপি চাষ করেছেন কৃষকরা। সাধারণত শীতের মধ্যেই বাধাকপি চাষ ও হারভেস্টিং শেষ হয়ে যায়। গত বছর থেকে শুরু হয়েছে এই প্রক্রিয়া এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও যাচ্ছে বিদেশে মেহেরপুরের বাধাকপি। মেহেরপুরের সবজি দেশের গণ্ডি পেরিয় বিদেশেও সুনাম অর্জন করছে। রপ্তানিযোগ্য কৃষির নতুন সম্ভাবনা মেহেরপুরের কৃষি।

বন্দর গ্রামের বাঁধাকপি চাষি বজলুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই আমি বাঁধাকপি ফুলকপি চাষ করি। এ বছরেও আমার দুই বিঘা বাঁধাকপি রয়েছে। বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এতে আমাদের লস হচ্ছে। আমাদের এই মেহেরপুরের বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানি হওয়াতে হয়তো আমরা ৫০-৬০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি বিক্রি করতে পারব। বামন পাড়া গ্রামের কপি চাষী রমিজুল ইসলাম বলেন, আমাদেরই মাঠে খুব সুন্দর বাঁধাকপি হয়। অতিরিক্ত শীতের কারণে বাজার দর এখন কমে গেছে এর কারণে আমরা অনেক চিন্তিত ছিলাম। শুনলাম বাইরে থেকে পার্টি এলাকাতে এসেছে বাঁধাকপি নেওয়ার জন্য। এতে আমরা মোটামুটি লাভ করতে পারব আশা করছি। কারণ ভালো দামে তারা কপিটা আমাদের কাছ থেকে কিনছে এবং এতে আমরা লাভবান হচ্ছি।

স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিবছরই আমরা কাঁচামাল জেলার বাহিরের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যেয়ে বেচাকেনা করি। শীতের কারণে সবজির দাম এ বছরে অনেক কম। বিদেশে কপি রপ্তানির জন্য আমার কাছে কয়েকটি পাটি এসেছে। রপ্তানিকারি প্রতিষ্ঠান গুলো আমার কাছ থেকে দুই থেকে তিনশ গাড়ি বাঁধাকপি নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এতে কৃষকেরা কিছু লাভবান হতে পারবে সেইসাথে আমরাও লাভবান হব।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত রপ্তানিকারি ব্যবসায়ী মজনু হোসেন বলেন, আমরা বাহিরে থেকে এসেছি। মেহেরপুরের সব ধরনের সবজি এখানে ভালো হয় এবং খুবই যত্ন সহকারে এ জেলার চাষিরা ফসল ফলায়। এখান থেকে বাঁধাকপি নিয়ে আমরা মালয়েশিয়া দুবাই সিঙ্গাপুরে রপ্তানি করি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন পারভিন বলেন, বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত শীত থাকার কারণে সবজির দাম অনেকটাই কম থাকে ।অধিক মুনাফার জন্য কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বিদেশে বাঁধাকপি রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকের বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় বাধাকপি বিক্রি করছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে। গত বছরে বাঁধাকপি এবছরের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করেছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে