সিলেট জেলার ফার্মেসী মালিকদের উদ্দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, এবছরের মধ্যে লাইসেন্সবিহীন সকল ফার্মেসি বন্ধ করে দেয়া হবে। আজ ৯’ই ফেব্রুয়ারী সকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “বাংলাদেশ মডেল ফার্মেসী ও মডেল মেডিসিন শপের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ’আহবান জানান।
বাংলাদেশে মডেল ফার্মেসী ও মডেল মেডিসিন শপ বিষয়ে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ডিএফআইডি-ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সোসাইটি ও ম্যনেজমেন্ট সায়েন্সেস ফর হেল্থ এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্টার ফার্মাসিউটিকালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: রেজাউল হাসান লোদি কায়েস, বিসিডিএস সিলেট শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব এ. টি. এম. মোশাহিদ উদ্দিন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিসিডিএস সিলেট জেলা শাখার সভাপতি জনাব ময়নুল হক চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন এমএসএইচ’র বিএইচবি প্রকল্পের প্রিন্সিপাল টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার জনাব ডা. মোঃ ইফতেখার হাসান খান।
প্রধান অতিথি সিলেট জেলার ফার্মেসী মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফার্মেসীতে সেবা প্রদানে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষকর্মী রাখাতে হবে। আপনারা ইনভয়েস ছাড়া এবং আন-রেজিস্টার্ড কোম্পানি থেকে কোন ধরনের কেনাকাটা করবেন না। আপনাদের লাইসেন্স নবায়ন অনলাইনে করার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা পৃথিবীর ১৪৮ দেশে ঔষধ রপ্তানি করি এবং দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২% আমদানি করি। সারাবিশ্বে আমাদের ঔষধের সুনাম রয়েছে। আপনারা পুরো মেডিসিন ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমেরই অংশ, দেশেও সঠিক মানে ও তাপমাত্রায় মানুষের হাতে আপনারা ঔষধ তুলে দিবেন।
উল্লেখ্য, মডেল ফার্মেসি হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো মডেল ফার্মেসিতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকবেন, যার দায়িত্বে থাকবে পুরো ফার্মেসিটি। ফার্মেসির আয়তন হবে নুন্যতম ৩০০’বর্গফুট এবং থাকবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ওষুধ বিষয়ে রোগীকে ওষুধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা।
মডেল মেডিসিন শপ মূলত বাংলাদেশের সর্বত্র সঠিক ওষুধসেবা নিশ্চিত করার জন্যে মডেল ফার্মেসি থেকে কিছুটা শিথিল শর্ত নিয়ে তৈরি। মডেল মেডিসিন শপের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে নুন্যতম ১২০’বর্গফুট। গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টের অপ্রতুলতার কারণে গ্রেড বি(ডিপ্লোমা) ফার্মাসিস্ট বা নুন্যতম গ্রেড সি ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের কিছু স্বল্পমূলের প্রতি রাখতে হবে। যেমন, সিলিং ফ্যান ও একজস্ট ফ্যান, ওষুধ বিষয়ের রুগীকে ওষুধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা।



























