টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমাে প্রথম পর্ব। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মোনাজাত শেষ করে বাড়ির পথ ধরেন মুসল্লিরা। এসময় লাখো মানুষ দল বেঁধে ছোটেন যানবাহনের খোঁজে। যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেস্টা করছেন। কেউ যাচ্ছেন ট্রেনের ছাদে, কিংবা পিকআপে, কেউবা বাসের ছাদে, অনেকে আবার হেঁটে। তাদের চোখে মুখে কোনো ক্লান্তি কিংবা উদ্বেগের ছাপ নেই। সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তিন দিন ইজতেমায় কাটিয়েছেন, যার পুরোটা জুড়েই ছিল ইসলামী বয়ান শোনা আর জিকির-আসগার।

ইজতেমার মাঠ এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রেল স্টেশন ও বাস পর্যন্ত পৌঁছাতে হয় তাদের। নানা ভোগান্তির পরও মোনাজাতে অংশ নিতে পারায় খুশি মুসল্লিরা। তারা জানান, এতো কষ্টের পরও যে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে পরেছি এতেই আমরা খুশি। তবে, পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়ায় সবার মধ্যেই একটি তাড়াহুড়োর বিষয় লক্ষ করা গেছে। টঙ্গী রেল স্টেশনে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। কোচের ভেতরে জায়গা না পেয়ে হাজারো যাত্রী ছাদে চড়ে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করেন। জামালপুরে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ইজতেমা স্পেশাল ট্রেনটির ভেতর, ছাদ বা ইঞ্জিন কোথাও তিল ধরনের ঠাই নাই।

আখেরি মোনাজাত শেষে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের চিত্র ছিল একই রকম। রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ ঝুকি নিয়ে যাত্রা না করতে বারবার মাইকে অনুরোধ করলেও তা কোন কাজেই আসেনি। ঝুকি জেনেও এভাবে বাড়ি ফেরার পেছনে নানা যুক্তি যাত্রীদের।

ইজেতামায় আংশ নেয়া মুসল্লিরা জানান, ৩ দিনের ইজতেমা থেকে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বীনের দাওয়াত দিতে ছড়িয়ে পড়বেন তারা। এদিকে শত শত মানুষ কয়েক কিলোমিটার হেটে ককুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় এসে বাসে ওঠেন। তবে বাস সংকটে অনেককে দেখা গেছে ট্রাক ও ছোট ছোট পিকআপ চড়ে যাত্রা করতে। এছাড়া যাত্রীদের একটা বড় অংশ দিয়াবাড়ি থেকে মেট্রোরেলে করে আগারগাঁও পর্যন্ত পৌঁছান। যখন যান চলাচল শুরু হয়েছে তখন আবার মুসল্লিদের গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। এদিকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দান এলাকাতে সাকালে আসতেও মুসল্লিদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

বিশ্ব ইজেতামায় জুম্মার নামায আদায়ের ছবি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে