শিশুদের আবদারে বাবা-মা জিম্মি হয়ে পড়ছে প্রযুক্তির কাছে, প্রযুক্তি কেঁড়ে নিয়েছে শিশুদের শৈশব। গল্প কিংবা গান গেয়ে শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দিন ফুরিয়ে এসেছে, খাওয়াতে কিম্বা ঘুম পাড়াতে এক সময় মায়ের কাছে শিশুরা এ দাবীগুলো করলেও এখন চিত্র উল্টো। এখন শিশুদের আবদার মোবাইল কিম্বা কম্পিউটারে ভিডিও গেমস অথবা টিভির কার্টুন অথবা ইউটিউব। ধীরে ধীরে আবদার পৌঁছে যাচ্ছে আসক্তিতে। কিছুই করার থাকছে নাহ বাবা-মায়ের।
আমাদের চোখে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
সারা’র সারাদিন কাটে ইউটিউবে, বাব-মা দুজনই চাকুরী করেন, সারা থাকে তার দিদা’র কাছে, সারাদিন ফ্লাটের উঁচু তলায় একা একা সময় কাটানোর জন্য ইউটিউব সারা আর কিছুই নেই, পরিবারটি সারাকে সামাল দিতে প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে যেন বাধ্য।
ফারহানা এবং ফারজানা দুজন সহদর। যান্ত্রিক নগর সভ্যতা কেড়ে নিয়েছে তাদেরও চঞ্চল শৈশব। মুক্ত মাঠের দুরন্তপনা মুখ লুকিয়েছে প্রযুক্তির পর্দায়। স্কুল আর পাঠ্য বইয়ের বাইরে তাদের সখ্যতা কম্পিউটার এবং মোবাইল গেমসের সাথে। স্কুল থেকে ফিরে কে আগে বাবা কিংবা মায়ের মোবাইল সেটটি দখলে নিবে তাই নিয়ে চলে প্রতিযোগীতা, বিজয়ীর সাথে সমঝোতায় না পোষালে অন্যজন মনযোগী হয় টিভির পর্দায়। যদিও এ বয়সেই প্রযুক্তি শিখিয়েছেও ওদের অনেক কিছু। সন্তানের এই প্রযুক্তি নির্ভরতা নিয়ে কথা হয় রবিন্দ্র বিশ্বাবদ্যালয়ের রবিন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষিকা লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সাথে।
এই দুই বোনের মত নগরীতে বসবাসকারী বেশির ভাগ শিশুদের ই-শৈশব বন্দি হয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিতে, খেলার মাঠ কিংবা বিনোদিত হওয়ার মুক্ত যায়গা না থাকায় ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে ই মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের উপর ই নির্ভরশীল এবং আসক্ত ও হয়ে উঠছে তারা।
বাবা মা দু জনই পেশাজীবী হওয়ায় দাদীর কাছেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে তুরফা আর জাহরার। ওদের দাদুর কম্পিউটারের জ্ঞান না থাকলেও এরই মধ্যে তুরফা শিখে নিয়েছে অনেক বিদ্যা, যদিও স্কুলে ভর্তির বয়স হয়নি এখনো। কম যায় না দু বছরের যাহরাও। তবে তুরফা জাহরা, কিম্বা ইশান ইয়াজ, ওদের মতের বিরুদ্ধে বন্ধ করা যায় না গেমস কিংবা কার্টুন। সন্তানের এ আসক্তি ভাবিয়ে তুলছে অভিভাবকদের।
সংঙ্কার কথা হচ্ছে কচি মনে এ ধরনের আসক্তিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে রোগ হিসেবে। টিভি, কম্পিউটার, ল্যাবটব কিম্বা মোবাইল দীর্ঘ সময় দেখার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা ।
মানবিক আগামী গড়তে নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তির পাশাপাশি দেশীয় শিক্ষা এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে অভিভাবকদের তাগিদ বিশ্লেষকদের। সম্মিলিত প্রচেস্টায় সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা সবার।
রিয়ানা হাবিবা,
ন্যাশনাল ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ














