আহসান হাবিব, তেতুলিয়া(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি।।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মেসার্স আনোয়ার টেলিকম ও বিকাশ ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে টাকা ছিনতাইকারীদের ধরেছে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ। ছিনতাই ঘটনার তিনদিন পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে আজ শুক্রবার(৬’ই জানুয়ারী) বেলা ১১টায় মডেল থানায় সাংবাদিকদের সাথে প্রেসব্রিফিং করেছে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ চৌধুরী।

পুলিশ জানায়, গত ১’লা জানুয়ারীতে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের মেসার্স আনোয়ার টেলিকম ও বিকাশ সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন(৩৯) রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা তাকে কাটাতার দিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে নগদ সাড়ে তিন টাকাসহ মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও ভুক্তভোগী অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নামে। ঘটনার তিনদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মো. ইউসুফ (২৯), জুয়েল রানা(২৮) ও নুর হোসেন(৩৩)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া কিছু টাকা, মোবাইল উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ইউসুফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে, একই গ্রামের জুয়েল রানা আব্দুল করিমের ছেলে ও নুর হোসেন আজিজনগর গ্রামের আজিজনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। এরা অত্র এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামী ও বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়িত।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থল হতে কাটাতারের বেড়া উদ্ধার করা হয়। এই কাটাতার বেড়ার অংশ নিয়ে তদন্তে নেমে মাত্র তিনদিনের মাথায় ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। পুলিশের হেফাজতে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এসব কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন জেলা পুলিশ ও মান্যবর পুলিশ সুপার মহোদয়। তাদের সাথে আরও কেউ জড়িত ছিল কীনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরের অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, আমরা তদন্তের স্বার্থে সংখ্যাটা বলতে চাচ্ছি না। তবে আমরা জানার চেষ্টা করছি, তাদের সাথে আর কে কে জড়িত ছিলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আগামীতেও যেকোন অপরাধে জড়িত অপরাধীদের এভাবে খুঁজে বের করবে। শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন সদর ইউনিয়নের কোম্পানীজোত গ্রামের আব্দুল সামাদের ছেলে। তিনি তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের মেসার্স আনোয়ার টেলিকম ও বিকাশ ব্যবসায়ী। গত ১ জানুয়ারি তিনি রাতে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় বাইপাস মহাসড়ক ক্রসিং করে ফেরদৌসের বাড়ির অদূরে গাছে বেঁধে রাখা একটি কাটাতারের ব্যারিকেটে পথ রোধ হয়ে পড়লে এক ছিনতাইকারী চক্র তাকে মারধর করে ফেলে রেখে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। তিনি দুদিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার তিনদিন পর তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে