১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেল ৪টা ৩১’মিনিটে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার দুই যুগের শোষণ-বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে, ৩০’লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আসে বহু-কাঙ্ক্ষিত বিজয়। ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক দেশের স্বপ্নে যে জয় অর্জিত হয়েছে, তার যথার্থ বাস্তবায়নের তাগিদ দিচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যে স্বাধিকার চেতনার স্ফুরণ ঘটে তা রূপ নেয় বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামে। স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৭’মার্চের ভাষণের পরেই একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরতম আক্রমণ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেদিন রাতেই গ্রেপ্তারের আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০’লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান বাহিনী। লাল-সবুজ পতাকা ওড়ে স্বাধীন ভূমিতে, নতুন দেশে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে নানামুখী উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বাড়ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। দারিদ্র্য আর দুর্যোগ মোকাবিলা করে এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ। বিদেশিদের ‘ষড়যন্ত্র’ মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি পদ্মা সেতুর চালু করেছে বাংলাদেশ। এই বিজয় দিবসের ১২’দিন পর উদ্বোধনের হচ্ছে মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্প। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাবে আর কিছু দিনের মধ্যে। সেই অগ্রযাত্রার কথাই বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, “দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে পরিপূর্ণতা দানের লক্ষ্যে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ‘রূপকল্প ২০৪১’। সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির ফলে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রয়েছে। তবে ৭৫-এর পর দীর্ঘ সময় সামরিক শাসন ও প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ক্ষমতায় থাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মনে করছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের তাগিদ তাদের।




























