
মাসুদ পারভেজ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি।। ঝালকাঠি জেলা শহরের এ রাস্তা থেকে ও রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশালদেহী হাতি। দোকানের সামনের সড়কে দাড়িয়ে দোকানের ভিতরে শুঁড় ঢুকিয়ে দেয়। ক্ষতির আশঙ্কায় ভয়ে বাধ্য হয়ে দোকানীরা ১০টাকা থেকে শুরু করে ১শ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
শুঁড়ের মাথায় টাকা গুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত শুঁড় সরাচ্ছে না হাতিটি। পিঠে ভাব নিয়ে বসে আছেন কিশোর মাহুত। টাকা না দিলে উল্টো ভয় দেখাচ্ছে মাহুত। আর এই মাহুতের কৌশলী নির্দেশেই এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছে হাতিটি। এসময় যে রাস্তায় দাড়িয়ে টাকা আদায় করে সে রাস্তাটি বøক হয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ভয়ে সেখান দিয়ে যেতে পারছে না শিক্ষার্থী, পথচারীসহ কোনো যানবাহন। এভাবেই অভিনব কৌশলে হাতি দিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝালকাঠি জেলা শহরে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে হাতি দিয়ে টাকা তুলছেন মাহুত। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে দোকানের ধরন অনুযায়ী ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। শুধু দোকানেই সীমাবদ্ধ নয়, সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের পথ রোধ করেও টাকা তুলতে দেখা যায় এই মাহুতকে। পাদুকা বিক্রির দোকান স¤্রাট বাজারে হঠাৎ বিশাল দেহের হাতিটি মাহুতের ইশারা ইঙ্গিতে শুঁড় এগিয়ে দিল দোকানের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার ৫০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুঁজে দিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মালিক পরিতোষ বলেন, টাকা না দিলে হাতিটি যাবে না, তান্ডবও চালাতে পারে। তাই ঝামেলা হওয়ার আগেই টাকা দিয়ে বিদায় করলাম।
কুমারপট্টি রোডের কসমেটিকস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক সৈয়দ জাহাঙ্গির হোসেনসহ ব্যবসায়ীরা জানান, মাঝে-মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করেন তারা। প্রতিটি দোকান থেকে হাতি দিয়ে টাকা তোলা হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরিয়ে নেওয়া হয় না। অনেক সময় সাধারণ মানুষ, শিশু বাচ্চাসহ মহিলা ক্রেতারা হাতি দেখে ভয় পান। এতে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, দোকান থেকে চাঁদা উঠানো শেষ হলে হাতিগুলো রাস্তায় নামে। শুধু দোকানই না এরা চলন্ত গাড়ি থামিয়ে দিয়ে চাঁদা আদায় করেন। এতে করে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। হাতির মাহুত আকাশ জানায়, হাতির ভরণপোষণের জন্য সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। খুশি হয়ে যে যা দেয় আমরা তাই নিই, এতে আবার চাঁদাবাজি হয় কীভাবে? আমরা তো কারো উপর কোনো ধরনের জোর করি না; যার ইচ্ছে দেয় মন না চাইলে দেয় না। সদর থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হাতি দিয়ে টাকা তোলার বিষয়ে এখনো কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝালকাঠি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























