
শাহজাহান ফকির, নান্দাইল সংবাদাদতা।। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে সীমাহীন চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীতে বৃহস্পতিবার (৩রা নভেম্বর) নান্দাইল উপজেলা পরিষদের সামনে মানবন্ধনের আয়োজন করে জাতীয় শ্রমিক লীগ নান্দাইল উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও যানবাহন চালকরা।
জাতীয় শ্রমিক লীগ নান্দাইল উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আফেন্দি সঞ্জিব ইসলামের নেতৃত্বে উক্ত মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মহাসড়কে মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা শহিদ সহ ফরহাদ, শাহান, উজ্জল নামে কতিপয় যুবকরা চাঁদাবাজদের সহযোগীতা করনে লক্ষ্যে মানবন্ধনে বাধা প্রদান, ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়া’সহ শ্রমিকদেরকে মারধর করে। এছাড়া মানববন্ধনের ছবি তুলায় সাংবাদিকদেরকে হুমকীও প্রদান করা হয়েছে।
প্রথমত, সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে মহাসড়কে মানবন্ধনে বক্তব্য চলাকালে শ্রমিক লীগ নেতা শহিদ মিয়া ও চাঁদাবাজ উজ্জল মানবন্ধনের ব্যানার নিয়ে টানাটানি করে ও কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করে। এসময় নান্দাইলে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক মানববন্ধনের ছবি তুলার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের উপরেও চড়াও হয় এবং সাংবাদিকদেরকে সংবাদ পরিবেশন না করার হুমকি প্রদান করে। পরে মানবন্ধনে আগত নেতারা কতিপয় ব্যক্তিদের ধাওয়া খেয়ে ছত্র ভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার কিছুক্ষন পর সাড়ে ১২টার দিকে নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুনরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতেও হামলা চালায় উল্লেখিত কতিপয় ব্যক্তি ও চাঁদাবাজরা। এ’সময় মানবন্ধনের আয়োজকদের কাছ থেকে ব্যনার ছিনিয়ে নিতে না পারায় শ্রমিক লীগ নেতা সঞ্জিব ইসলামকে মারধর করে। মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলা পরিষদের সামনে ব্রীজ এলাকায়, কানারামপুর বাসস্ট্যান্ড, দেওয়ানগঞ্জ রোড, নান্দাইল-হোসেনপুর রোড, নান্দাইল সদর হাসপাতাল মোড় ও নান্দাইল চৌরাস্তায় প্রতিদিনই অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার সীমাহীন চাঁদাবাজি হচ্ছে।
মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও মহাসড়কে কোনরূপ চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। বক্তারা আরও জানায়, প্রতিদিনই ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহনের নিকট থেকে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গাড়ী প্রতি শ্রমিক কল্যাণ, পৌর কল্যাণ সহ বিভিন্ন নামে চাঁদা তুলা হচ্ছে। যা কোন চালক বা শ্রমিকের কোন ধরনের কল্যাণ বয়ে আনছেনা। কোন শ্রমিকের অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় আহত ও মৃত্যু ঘটলেও কোনরূপ সহযোগিতা করতে দেখা যায় না বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। তারা আরও জানায়, রেজিস্টেশনের নামে ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা বাৎসরিক চাঁদা দেওয়ার পরেও প্রতিদিন প্রত্যেক গাড়ী চালককে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে দৈনিক ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। শ্রমিক হয়রানি থেকে রেহাই সহ অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যানবাহন চালক ও শ্রমিক সহ সুশীল সমাজ।
মানবন্ধনে শ্রমিকদেরকে মারধরের ঘটনার বিষয়টি শ্রমিকরা তাৎক্ষনিক উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও নান্দাইল পৌর মেয়রকে অবহিত করলে তাঁরা বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন, চাঁদার টাকার বিশেষ অংশ নেতারা সহ প্রশাসনকে দিতে হয়। তা না হলে সড়কে গাড়ী চালাতে দেয় না। ফলে প্রশাসনের যোগসাজশেই দিনরাত চাঁদাবাজি হচ্ছে। পরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারক লিপি প্রদান করে।
এ’দিকে নান্দাইল পৌর সভার মেয়র মো. রফিক উদ্দিন ভূইয়া বলেন, চাঁদাবাজকারীরা যেই হউক, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। চাঁদাবাজরা সবসময় সরকার বিরোধী। এদেরকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

নান্দাইল নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























