
মাসুদ পারভেজ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি।। ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ীগুলো। ঝালকাঠি’র উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সিত্রাং’র প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল কিছু কাচা ঘরবাড়ি তবে জেলায় কোথাও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মহাসড়ক ও সড়কের উপরে পড়া গাছগুলো জনস্বার্থে কেটে পরিস্কার করে দিয়েছে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গাছ পড়ে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও বিদ্যুত বিভাগের লোকজন জরুরীভাবে তা সংযোগের চেষ্টা চালিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে জেলা শহরে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় রোববার রাত থেকেই। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে জেলা শহরের টাউন -১ (ভিআইপি) ফিডারে পরীক্ষামূলক সংযোগ দিয়ে ত্রুটিমুক্ত থাকায় অন্যান্য ফিডারেও বিদ্যুত সংযোগ চালু করে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ করতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ওজোপাডিকো ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রহিম মিয়া।
গেল সোমবার দুপুর থেকে মূষলধারে বৃষ্টিপাত ও বাতাস বইতে থাকে। সন্ধ্যা থেকে বাতাসের গতি বাড়ে। নদীর তীরবর্তি এলাকার মানুষজন নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেন। সাথে নেন গৃহপালিত গবাদিপশু।সোমবার সন্ধার পরে শহরের মধ্যে বিভিন্ন দোকনপাট ও বাসা বাড়িতে, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ডুকে পড়লে ভোগান্তির সৃষ্ট হয়। ঝালকাঠির ২টি পৌরশহরসহ ৪টি উপজেলায় ১১০মে. টন চাল, সাড়ে চার লাখ টাকা, ৬৫০ বস্তা (২শ ১৪মণ) শুকনা খাবার, ২শত কার্টুন বিস্কুট ও ২শত কার্টুন ড্রাইকেক আশ্রিতদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানান, সিত্রাং আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় এবং সংকেতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রায় ৪লাখ লোকের ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ৪৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখে সেখানে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, বিস্কুট ও ড্রাইকেক বরাদ্দ দেয়া ছিলো। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ১৪হাজার ৫শত ৬৪জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেই আশ্রিত ব্যক্তিরা তাঁদের গৃহপালিত ১হাজার ৮শত ৬১ গবাদি প্রাণিকেও আশ্রয়কেন্দ্রে রাখেন। গাছ পড়ে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোন হতাহতের ঘটনাঘটেনি। মহাসড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হলে জনস্বার্থে তা ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা কেটে পরিস্কার করে স্বাভাবিক করে দেয়। তিনি আরো জানান, এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগামীকালের মধ্যে সর্বক্ষেত্রের ক্ষতির পরিমাণ ও তথ্য পাওয়া যাবে।

ঝালকাঠি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























